1. admin@nagorikexpress.com : নাগরিক এক্সপ্রেস : Nagorik Express প্রশাসন
  2. allmohiminulkhan@gmail.com : Khan allmohiminulkhan : Khan allmohiminulkhan
  3. khalidsyful@gmail.com : syful Khalid : syful Khalid
  4. abukawsirahmed638@gmail.com : Abu Kawsar : Abu Kawsar
  5. abdullahyeasir@gmail.com : MASUD Alom : MASUD Alom
  6. mizanbd@gmail.com : Mizan Khan : Mizan Khan
  7. nayemk255@gmail.com : Nayem Nayem : Nayem Nayem
  8. dailydhakartime@gmail.com : Nayim Khan : Nayim Khan
  9. hasan145nazmul@gmail.com : Tarak : Tarak Sarkar
  10. rd278591@gmail.com : RA Rahul : RA Rahul
  11. cablew742@gmail.com : Sojal Mia : Sojal Mia
বৃহস্পতিবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন

কৌশলে গ্রাহকদের টাকা আটকে কোটিপতি ইভ্যালি

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২০
  • ২৭৬ সময় দেখা

নিউজ ডেস্ক : কৌশলে গ্রাহককে জিম্মি করার অভিযোগ উঠেছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির বিরুদ্ধে। অনলাইন শপিংয়ের পর ১৫ দিনে ডেলিভারি দেয়ার কথা থাকলেও মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও মিলছে না কাঙ্খিত পণ্য। সেই সঙ্গে অগ্রিম টাকা দিয়ে ভোগান্তিতে রয়েছেন অনেক গ্রাহক। ডেইলি বাংলাদেশ

বর্তমানে বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালের দেখা যাচ্ছে এ ধরণের প্রতারণামূলক অনলাইন বিজনেস এর অ্যাড।

সম্প্রতি এক গ্রাহক ইভ্যালি থেকে বড় ভাইয়ের জন্য মোটরসাইকেল অর্ডার দিয়ে হয়েছেন ঘরছাড়া। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মোটরসাইকেল কিনতে গিয়ে কীভাবে ঘরছাড়া হয়েছে তা তুলে ধরেছেন তিনি।

ফারুক ইসলাম নামের ওই গ্রাহক বলেন, ইভ্যালিতে বড় ভাইয়ের জন্য বাইক অর্ডার করে আজ আমি ঘরছাড়া। যতদিন না ডেলিভারি পাব ততদিন আর বাসায় ঢুকতে পারবো না। ভাই সবাই আমার জন্য একটু দোয়া করবেন। কি করে হিরো বাইক ডেলিভারি পাওয়া যায় সেই সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

ইভ্যালি থেকে প্রতিদিনই এমন হয়রানির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। তাদের অভিযোগ ইভ্যালি কখনো নির্ধারিত সময়ে পণ্য ডেলিভারি দেয় না। এমনকি তিন চার মাস অপেক্ষায় রেখে গ্রাহককে বলা হয় স্টক আউট হওয়ার কারণে পণ্য দেয়া যাচ্ছে না।

অভিযোগ উঠেছে যাদের পণ্য ডেলিভারি দেয়া হয় না তাদের সরাসরি টাকাও ফেরত দেয় না প্রতিষ্ঠানটি। ইভ্যালির ওয়েবসাইটে গ্রাহকের করা অ্যাকাউন্টে এ টাকা রেখে পরবর্তীতে পণ্য কিনলে অ্যাডজাস্ট করা হবে বলে জানানো হয়। যা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে একটি অপরাধ।

আইনের ৪৫ ধারায় বলা আছে, প্রদত্ত মূল্যের বিনিময়ে প্রতিশ্রুত পণ্য বা সেবা যথাযথভাবে বিক্রয় বা সরবরাহ না করা হলে অনূর্ধ্ব এক বছর সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা জানান, আমাদের টাকা আমরা দেখতে পাব কিন্তু নিতে পারবো না। তার মানে আমাদের সরলতাকে পুঁজি করে আমাদের জিম্মি করছে প্রতিষ্ঠানটি। তারা যদি আমাদের পণ্য না দিতে পারে তাহলে সঙ্গে সঙ্গে টাকা ফেরত কেন দেয় না? মাসে এমন করে গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা তাদের কাছে রাখছে। আর সেই টাকা দিয়েই ব্যবসা করছে ইভ্যালি। এক অফারের পণ্য না দিতেই অন্য অফারে চলে যায় তারা। এতে ওই অফারেও নেয়া হচ্ছে টাকা। এ যেন আরেক ডেসটিনি। যারা এমএলএম ব্যবসার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়েছে।

সম্প্রতি এক গ্রাহক তিনটি মোবাইল ফোন ক্রয়ের জন্য পেমেন্ট দিলেও তাকে যথা সময়ে ফোন না দেয়া, সঠিক হ্যান্ডসেট না দেয়া, বদলে দেয়ার কথা বলে অতিরিক্ত টাকা নেয়া এবং একটি ফোন ডেলিভারি দিয়ে তিনটি মোবাইলের রিসিট দেয়ার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

শামীম রাফি নামের ওই গ্রাহক জানান, ইভ্যালির লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেখে ৫০ শতাংশ ডিসকাউন্টে আমি তিনটি মটোরোলা ই৫ প্লাস মোবাইল অর্ডার করি এবং তিনটি মোবাইলের জন্য ২৩ হাজার ৭০ টাকা বিকাশের মাধ্যমে পেমেন্ট করি। মোবাইলগুলো ১৫ দিনের মধ্যে ডেলিভারি দেয়ার কথা থাকলেও স্টকে নেই বলে আমাকে ঘোরাতে থাকে। পরে এমআই রেডমি নোট ৭এস নামক মোবাইল ফোনটি নিতে পারবেন বলে জানায়। কিন্তু তার জন্য আরো তিন হাজার করে টাকা জমা দিতে হবে।

যেহেতু আমার তিনটি মোবাইলই দরকার ছিলো, সেজন্য আমি আরো নয় হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে ইভ্যালিকে পেমেন্ট করি এবং তারা আমাকে ২২ নভেম্বর ‘পেপারফ্লাই’ নামক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মোবাইল ফোন ডেলিভারি করে।

কিন্তু ডেলিভারিকৃত মোবাইল ও তার মানি রিসিট দেখে আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পরে। কেননা তারা আমাকে যে ফোনটি ডেলিভারি করেছে সেখানে মাত্র একটি ফোন ছিলো আর মানি রিসিটে ছিলো আমাকে তিনটি মোবাইল ডেলিভারি দেয়া হয়েছে।

আমি তাৎক্ষণিক ইভ্যালির কাস্টমার কেয়ারে ফোন দিলে জানানো হয় বাকি দু’টি মোবাইলের টাকা রিফান্ড করা হবে।পরে আমি ভোক্তা অধিকারে লিখিত অভিযোগ করার পর ইভ্যালির কয়েকজন কর্মকর্তা ভোক্তা অধিকারের পরিচালকের রুমে ক্ষমা চেয়ে বাকি ফোন দু’টি দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে গিয়ে দেখি সেখানে আগে থেকেই অনেক ভুক্তভোগী ইভ্যালির বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে এসেছেন। প্রতিদিনই এমন ভুক্তভোগী আসছেন। সেই সঙ্গে ইভ্যালির কিছু কর্মকর্তারাও সব সময় সেখানে থাকেন এসব বিষয় ম্যানেজ করার জন্য।

ইভ্যালিতে অর্ডার থাকার কারণে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ভুক্তভোগী বলেন, ইভ্যালির বড় সমস্যা হলো তারা ডেলিভারি টাইম ঠিক রাখে না। পণ্যের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। আমি অর্ডার করে প্রায় তিন মাস হতে চলেছে এখনো প্রডাক্ট হাতে পায়নি। কর্তৃপক্ষ থেকেও কোনো ধরনের সহযোগিতা পাওয়া যায় না।

হালিম নামে এক গ্রাহক ইভ্যালির পেজে কমেন্টসে লিখেছেন, ‘গত ১৬ ডিসেম্বর প্রিসেলে অর্ডার করা ল্যাপটপ এখনো হাতে পাইনি। কাস্টমার কেয়ার জানিয়ে ছিলো ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রোডাক্ট হাতে পেয়ে যাবো। আস্থা রেখে আর একটা কলও দেইনি। এখন পর্যন্ত পুরো সিস্টেম প্রসেসিং অবস্থায় আছে। দয়া করে ইভ্যালি কর্তৃপক্ষ থেকে একটি যুক্তিসঙ্গত কারণ কি জানাবেন???’

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের কাছে লিখিত যতগুলো অভিযোগ এসেছে তার পদক্ষেপ নিচ্ছেন সহকারী পরিচালকরা। অভিযোগের প্রমাণ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হয়। কী পরিমাণ অভিযোগ জমা পরেছে সেই সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রতিদিনই ইভ্যালির বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পরছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, আমরা এখনো কোনো ক্রেতার অভিযোগ পাইনি। তবে ফেসবুক এবং অন্যান্য মাধ্যমে ইভ্যালির সমস্যার বিষয়টি নজরে এসেছে। সেগুলো ইভ্যালিকে জানিয়েছি। তারা যথাযথ ব্যবস্থা নিয়েছে বলে আমাদের জানিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেলকে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি। মোবাইলে ম্যাসেজ দিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো সংবাদ
© নাগরিক এক্সপ্রেস । সর্বসত্ব সংরক্ষিত। নাগরিক এক্সপ্রেস এর প্রকাশিত প্রচলিত কোনো সংবাদ তথ্য ছবি আলোকচিত্র রেখা চিত্র ভিডিও চিত্র অডিও কনটেস্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামত এর জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ণ লেখক এর
Theme Customized By Theme Park BD
error: Content is protected !!