1. admin@nagorikexpress.com : নাগরিক এক্সপ্রেস : Nagorik Express প্রশাসন
  2. rd278591@gmail.com : Rahul Rahulrd : Rahul Rahulrd
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০২:১১ অপরাহ্ন
নোটিশ :
নাগরিক এক্সপ্রেস পত্রিকার সাংবাদিক হিসাবে কাজ করতে হলে আজই আমাদের অনলাইন পেইজে অথবা ই-মেইল নাম্বারে অথবা আমাদের মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করুন প্রতিটি জেলার শহরে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।   নাগরিক এক্সপ্রেস এর বিভিন্ন জেলার সাংবাদিকদের নাম এবং পদবী। নাম: তানজির আহম্মেদ সানি রিপোর্টার: ঢাকা জেলা নাম: নোমান খান রিপোর্টার: মোহাম্মদপুর ঢাকা। নাম: ইসমাইল হোসেন রিপোর্টার:রাজশাহী জেলা নাম : মেজবাহ উদ্দিন রিফাত রিপোর্টার : মোহাম্মদপুর ঢাকা মোঃ জাহাঙ্গীর রাজীব রাজু রিপোর্টার - ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া। নাম: প্রান্ত মৃধা রিপোর্টার: নরসিংদী নামঃসাকিব হাসান প্রিয়াস প্রতিনিধিঃ কৃষি ইনস্টিটিউট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া মকবুল হোসেন প্রতিনিধিঃ মিঠামইন,কিশোরগঞ্জ নাম : খালিদ সাইফুল চঞ্চল রিপোর্টার : কুষ্টিয়া জেলা নাম: এইচ এম জুয়েল রিপোর্টার: মাগুরা সদর মাগুরা জেলা নাম: আজাদ নাদভী রিপোর্টার: মুন্সিগঞ্জ জেলা নাম: ইসমাইল হোসেন রিপোর্টার:রাজশাহী জেলা নাম:মোঃইনজামামুল হক জুয়েল রিপোর্টার:সাতক্ষীরা জেলা নামঃ ফৌজি হাসান খান রিকু রিপোর্টারঃ লৌহজং উপজেলা নামঃ মুশফাকুর রহমান সিলেট জেলা প্রতিনিধি নামঃইমতিয়াজ উদ্দিন কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি    
শিরোনাম :

টি ব্যাগের এক কাপ চা, মানে আপনি এক কাপ বিষ খাচ্ছেন।

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২২ নভেম্বর, ২০১৯
  • ১৩৫ সময় দেখা

এক কাপ চা’ নিয়ে আমাদের কত কথা, কত আবেগ, কত অভিজ্ঞতা! দার্শনিক কিংবা কবি এক কাপ চায়ে খুঁজে পেতে পারে জীবনের জয়ধ্বনি, অবরুদ্ধ আবেগ, অনাবিল অনুভূতি, মুক্তির আনন্দ কিংবা উল্লাস। এমনকী গণতন্ত্রও। কিন্তু সেই চায়ের সঙ্গে আছে বিষও। প্লাস্টিকের বিষ। আমেজটা বেশি, নাকি বিষের পরিমাণটা, সে নিয়ে তর্কও চলতে পারে দীর্ঘকাল। তবে চা-প্রিয় মানুষ যে খবরটা শুনে আঁতকে উঠবে, সে কথা বলাই বাহুল্য। তাই বিষয়টা একটু তলিয়ে দেখতে হয়।

এখানে অবশ্য টি-ব্যাগের সাহায্যে তৈরি করা চায়ের কথাই বলা হচ্ছে। এই জিনিসটি আবিষ্কার হয়েছিল মাত্র দেড় দশক আগে। চা পানের ক্ষেত্রে এই নাইলনের টি-ব্যাগ এক ‘নীরব বিপ্লব’ হয়ে এসেছিল। এ এক ছিমছাম চা তৈরির পদ্ধতি। পড়ে থাকা চা-পাতা পরিষ্কারের কোনও ঝঞ্ঝাট নেই।

হোটেলে রেস্তোরাঁয়, অধিকাংশ টি শপ আর কফি শপে চা তৈরি করা হয় এভাবেই। আজকাল অনেক পাড়ার চায়ের দোকানেও চা তৈরি হয় টি-ব্যাগ গরম পানি বা দুধে ডুবিয়ে। এমনকি অনেক বাড়িতেও আজ তা একেবারেই স্বাভাবিক সাধারণ এক ঝঞ্ঝাট-বিহীন প্রকরণ। লক্ষ করলে দেখা যাবে, একটু ভালো টি-ব্যাগ তৈরি করতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নাইলন বা প্লাস্টিকের ব্যবহার করা হয়েছে।

টি ব্যাগ গরম পানিতে ডুবিয়ে চা পান করতে পছন্দ অনেকের। দিন দিন খোলা পাতি ব্যবহারের পরিবর্তে টি ব্যাগ ব্যবহারের মাত্রাও বাড়ছে। একইসঙ্গে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়ছি আমরা। কারণ একটি টি ব্যাগ গরম পানিতে ডুবালে তাতে যোগ হয় ১১০০ কোটি প্লাস্টিক কণা! আমরা সকলেই জানি টি-ব্যাগ কাগজের তৈরি। তবে চায়ের সঙ্গে প্লাস্টিক শরীরে যাচ্ছে কীভাবে? কিন্তু সকলেই যা জানি না তা হলো, টি-ব্যাগ কাগজের তৈরি হলেও সেটি সিল করা হয় পলিপ্রোপাইলিন দিয়ে। এই পলিপ্রোপাইলিন এক ধরনের প্লাস্টিক।

গবেষকরা বলছেন, ফুটন্ত পানিতে প্লাস্টিক লাগানো কোনো জিনিস ডুবিয়ে সেটা পান করা অত্যন্ত ক্ষতিকর। ওই প্লাস্টিকের ব্যাগগুলি পানীয়ের মধ্যে অসংখ্য প্লাসটিকের কণা যোগ করছে এবং এগুলো মানব শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতকির। কানাডার ম্যাগগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের মতে, একটি টি ব্যাগই ১১ বিলিয়ন মাইক্রোপ্লাস্টিক এবং ৩ বিলিয়ন ন্যানোপ্লাস্টিক কণা ছড়ায়। সাধারণ চোখে ওই দূষণ দেখা যায় না। ৯৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গরম পানিতে ৫ মিনিট টি ব্যাগ ডুবিয়ে রাখলে গোটা চা-টাই প্লাস্টিকের পার্টিক্যালে ভরে যাচ্ছে। অর্থাৎ এক কাপ চা খাওয়া প্লাস্টিক খাওয়ার সামিল। হিসেব বলছে, রোজ এক কাপ করে প্লাস্টিকের টি ব্যাগ ডোবানো চা খেলে, সপ্তাহে ৫ গ্রাম প্লাস্টিক পেটে ঢুকছে। তাদের এই গবেষণার বিস্তারিত বিবরণ সম্প্রতি আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি জার্নাল এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, বেশ কিছু চা বিক্রয়কারী কাগজের টি ব্যাগের পরিবর্তে প্লাস্টিকের টি ব্যাগে চা বিক্রি করছেন। এ বিষয়ে জনসাধারণকেই সচেতন হতে হবে। তারা জানেন কীভাবে প্লাস্টিক আমাদের শরীরের এবং সমগ্র প্রকৃতির ক্ষতি করছে। এই টি ব্যাগে ব্যবহৃত প্লাস্টিক গ্রহণের ফলে স্বাস্থ্যের প্রভাবগুলি এখনও যদিও অজানা তবু এটা নিশ্চিত যে এগুলি যথেষ্ট ক্ষতিকারক। বিশ্বজুড়ে অনেক মানুষ অজান্তেই প্রচুর পরিমাণে টি ব্যাগ ব্যবহার করে চা পান করেন। তাই গবেষকদের পরামর্শ, দোকান থেকে টি ব্যাগ কেনার আগে যাচাই করে নিন সেগুলি প্লাস্টিকের তৈরি নাকি কাগজের তৈরি! কাগজের তৈরি হলে তবেই সেই টি ব্যাগ কিনুন, নিজের স্বাস্থ্যের সুরক্ষার জন্য প্লাস্টিক বর্জন করুন।

চায়ের কাপে প্লাস্টিকের টুকরোর পরিমাণ কিন্তু অন্য খাদ্যে পাওয়া প্লাস্টিকের টুকরোর চাইতে অনেক বেশি। প্লাস্টিকজাত অন্যসব পণ্যেও ক্ষতিকর উপাদানের অস্তিত্ব রয়েছে। যেমন, গত বছরই নিউ ইয়র্কের স্টেট ইউনিভার্সিটির এক গবেষকের গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, পৃথিবীর সব বোতলজাত পানির ৯০ শতাংশেই হয় মাইক্রোপ্লাস্টিকের দূষণ। একবার ব্যবহার-যোগ্য প্লাস্টিকের বোতলের এক লিটার পানিতে থাকে কোথাও ৪৪টি, কোথাও ৩২৫টি মাইক্রোপ্লাস্টিকের টুকরো।

প্লাস্টিক নিয়ে পৃথিবীর বহু দেশে ভাবনা-চিন্তা শুরু হয়েছে। কারণ প্লাস্টিক আধুনিক জীবনকে অনেকটাই গ্রাস করে ফেলেছে। প্লাস্টিক সামগ্রী গোটা পৃথিবীর দূষণের প্রধান কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। সমুদ্রের গভীরে পর্যন্ত প্লাস্টিক সামগ্রী পৌঁছে গেছে। চিংড়ি, মাছ, ঝিনুকের মধ্যেও প্লাস্টিকের ক্ষতিকর উপাদানের অস্তিত্ব মিলছে। একটা ঝিনুকের মধ্যে থাকে ৯০টি প্লাস্টিকের টুকরো। এমনকী এক কিলোগ্রাম লবণের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকছে ৬০০টি, যার সম্মিলিত ওজন এক মাইক্রোগ্রামের অর্ধেক। আবার আমাদের খাবারে যে ধুলিকণা পড়ে, তা থেকেও বছরে ৭০ হাজার প্লাস্টিকের টুকরো ঢোকে আমাদের শরীরে। কিন্তু এই সমস্ত হিসেবকে যেন ছাপিয়ে উঠেছে আমাদের বড় আমেজের ধোঁয়া-ওঠা এক কাপ চা।

আসলে প্লাস্টিক বোধহয় মানুষের এক বিষাক্ত প্রেম-কথা। প্লাস্টিক আমাদের সভ্যতার মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি, আর তার ফলশ্রুতিতে এক ভয়াবহ দূষণের সম্মিলিত গল্প। আমাদের প্লাস্টিক-নির্ভরতা বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের ব্যবহারের কারণে এর ছোট্ট ছোট্ট কণা খাবার, পানীয়, নিশ্বাস-প্রশ্বাসের মধ্য দিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের শরীরের একদম গভীরে। আজ প্লাস্টিকের দূষণ নিয়ে আমরা ভেবে চলেছি, আলোচনা করে চলেছি সভায়, আড্ডায়, সংবাদপত্রে, টিভিতে। কিন্তু ঠিক এতটা আমরা আদৌ এতদিন বুঝে উঠতে পেরেছি কিনা সন্দেহ। আমাদের শরীরে ঢুকছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, যা জমে জমে বিষাক্ত হয়ে উঠছে শরীরের বিভিন্ন অঞ্চল। ‘এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ শীর্ষক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, প্রতি বছর আমাদের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক ঢোকে ৩৯ থেকে ৫২ হাজার। নিশ্বাসের প্লাস্টিক ধরলে সংখ্যাটা ৭৪ হাজারের বেশি। আজকের পৃথিবীর মানুষরা গড়ে প্রতি সপ্তাহে ৫ গ্রাম মাইক্রোস্কোপিক প্লাস্টিকের কণা খেয়ে চলে, যার ওজন মোটামুটি একটা ক্রেডিট কার্ডের ওজনের সমতুল্য। বছর জুড়ে এর সম্মিলিত পরিমাণ প্রায় ২৬০ গ্রাম। আমরা কি কখনও ভেবেছি, এতটা পরিমাণ প্লাস্টিক ঢুকছে আমাদের প্রত্যেকের শরীরে?

 

সংগ্রহীত খবর:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো সংবাদ
© নাগরিক এক্সপ্রেস । সর্বসত্ব সংরক্ষিত। নাগরিক এক্সপ্রেস এর প্রকাশিত প্রচলিত কোনো সংবাদ তথ্য ছবি আলোকচিত্র রেখা চিত্র ভিডিও চিত্র অডিও কনটেস্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামত এর জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ণ লেখক এর
Theme Customized By Theme Park BD
error: Content is protected !!