1. admin@nagorikexpress.com : নাগরিক এক্সপ্রেস : Nagorik Express প্রশাসন
  2. rd278591@gmail.com : Rahul Rahulrd : Rahul Rahulrd
শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:০২ অপরাহ্ন
নোটিশ :
নাগরিক এক্সপ্রেস পত্রিকার সাংবাদিক হিসাবে কাজ করতে হলে আজই আমাদের অনলাইন পেইজে অথবা ই-মেইল নাম্বারে অথবা আমাদের মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করুন প্রতিটি জেলার শহরে সাংবাদিক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।   নাগরিক এক্সপ্রেস এর বিভিন্ন জেলার সাংবাদিকদের নাম এবং পদবী। নাম: তানজির আহম্মেদ সানি রিপোর্টার: ঢাকা জেলা নাম: নোমান খান রিপোর্টার: মোহাম্মদপুর ঢাকা। নাম: ইসমাইল হোসেন রিপোর্টার:রাজশাহী জেলা নাম : মেজবাহ উদ্দিন রিফাত রিপোর্টার : মোহাম্মদপুর ঢাকা মোঃ জাহাঙ্গীর রাজীব রাজু রিপোর্টার - ভেড়ামারা, কুষ্টিয়া। নাম: প্রান্ত মৃধা রিপোর্টার: নরসিংদী নামঃসাকিব হাসান প্রিয়াস প্রতিনিধিঃ কৃষি ইনস্টিটিউট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া মকবুল হোসেন প্রতিনিধিঃ মিঠামইন,কিশোরগঞ্জ নাম : খালিদ সাইফুল চঞ্চল রিপোর্টার : কুষ্টিয়া জেলা নাম: এইচ এম জুয়েল রিপোর্টার: মাগুরা সদর মাগুরা জেলা নাম: আজাদ নাদভী রিপোর্টার: মুন্সিগঞ্জ জেলা নাম: ইসমাইল হোসেন রিপোর্টার:রাজশাহী জেলা নাম:মোঃইনজামামুল হক জুয়েল রিপোর্টার:সাতক্ষীরা জেলা নামঃ ফৌজি হাসান খান রিকু রিপোর্টারঃ লৌহজং উপজেলা নামঃ মুশফাকুর রহমান সিলেট জেলা প্রতিনিধি নামঃইমতিয়াজ উদ্দিন কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি    

দৌলতপুরে মধ্যবিও দের কান্না দেখার কেউ নেই

  • আপডেট সময় : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২০
  • ১১৫ সময় দেখা

প্রতিনিধি : মোঃ জীবন রহমান (কুষ্টিয়া দৌলতপুর)

কষ্টগুলো প্রকাশ করতে মানা আর জীবনের কোন ক্রান্তিলগ্নে খুব কান্না এলে তাতেও যেন মানা। কাঁদলেও কাঁদতে হবে নিরবে নিভৃতে। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন মারা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। ক্রমান্বয়ে বাড়ছে লাশের সংখ্যা। করোনার কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো পড়েছে চরম আর্থিক সংকটে।

নিম্ন আয়ের মানুষ সরকার বা উচ্চবিত্তদের কাছ থেকে সহায়তা পেলেও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সহায়তা থেকে বঞ্চিত। এই দুর্যোগপূর্ণ সময়ে সামাজিক অবস্থান, মানবিক মূল্যবোধ, আধুনিক ধ্যানধারণা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানসহ অন্য বিষয়গুলোর কারণে মুখফুটে তারা বলতে পারছে না তাদের অসহায়ত্বের কথা। অথচ সমাজের বড় একটি জনগোষ্ঠী মধ্যবিত্ত। দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির নেপথ্যে বড় ভূমিকা রাখে এরাই। বাজেট ঘোষণার পর কিংবা অন্য কোনো কারণে পণ্য বা সেবার দাম বাড়লে বলা হয় ‘চাপে পড়বে মধ্যবিত্ত’। এককথায় মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে জন্মগ্রহন করা মানুষের জীবনের গল্প ঠিক এমনই। বর্তমানে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পরা করোনা ভাইরাসের সংক্রমন রোধে বেশ কিছুদিন হলো কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ঔষধ ও নিত্যপন্য ছাড়া সব ধরনের দোকানপাট অনিদির্ষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। সেই সাথে বন্ধ হয়ে গেছে মধ্যবিত্ত পরিবারের আয় রোজগার। প্রশাসনের নির্দেশ মেনে বাজারে ভাড়া নেয়া দোকানটি বন্ধ রয়েছে। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে মানা। তারপর পরিবারের খাবার সংগ্রহের জন্য বাজারে আসতে বাধ্য হন অনেকেই। এদিকে উপজেলার অনেক ছোট-বড় ব্যবসায়ী পরিবার নিয়ে বেচেঁ থাকার জন্য নিজের কাছে জমানো সামান্যে পুজিঁ ও লোন করে ঘর মালিককে অগ্রিম টাকা দিয়ে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করে অনেকে। এতে তাদের মাথার উপর প্রতিদিন ভর করছে বাড়তি ঋণের বোঝার চাপ। আর সেই সাথে পরিবারের রোজগারের চিন্তা, অনেকে দোকান ভাড়া, বাসা ভাড়ার উপর নির্ভরশীল সব বন্ধ হয়ে গেছে, তাদের বোবা কান্না ছাড়া কোন উপায় থাকে না মধ্যবিত্তদের। এমতাবস্থায় কোনমতে আত্বীয়দের কাছে ধার করে চালাতে হচ্ছে তাদের সংসার।

তারপর রয়েছে সন্তানদের বিভিন্ন ধরনের বায়না। প্রতিদিনই কোনমতে এগুলো ম্যানেজ করে চলছে দিন। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে সামনে চলে আসে মধ্যবিত্তদের বিপদের আশঙ্খা ও হাহাকার। দুর্বিসহ হয়ে ওঠে জীবন-যাপন। অনেকে হয়তো কারো কারো বন্ধু-আতীয় ও পরিচিতদের কাজ থেকে ধার করে পরিবারের জন্য খাবার জোগার করে থাকে। আবার কেও কেও হয়তো না পরিবার নিয়ে না খেয়েই লোকলজ্জার ভয়ে ভালো থাকার অভিনয় করে দিনপার করে চলেছে। এসময় খুব বেশি কাছের ও পরিচিত না হলে টাকাও ধার দিতে চায়না অনেকেই।

উপজেলা বাজারের ফটোকপি ও ফেক্সিলোড ব্যবসায়ী জানান, এক মাস ধরে আমার ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ রয়েছে। ছোট হলেও দোকানের আয়ের টাকা দিয়েই সংসার চলতো আমার। ভাই-বোন, স্ত্রী, সন্তান ও বোনকে নিয়ে পরিবার তার। কোনো সঞ্চয়-ব্যাংক হিসাব নেই তার। তিনি জানান, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সংসার চালানোটা খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। হাতে যা কিছু টাকা ছিল তাও শেষ হয়ে এসেছে। দেশের অবস্থা এমন চলতে থাকলে আগামী দিনগুলো যে পরিবার নিয়ে কিভাবে চলবো ভেবে পাচ্ছিনা।

করোনা পরিস্থিতির কারণে কিভাবে দোকান ঘর ভাড়া দেবেন, কীভাবে সংসার চালাবেন ভাবতেই সে হিমিসিম খেয়ে উঠছেন। কিন্তু কাউকে এমন কষ্টের কথা বলতেও পারছেন না। আবার ত্রান ও খাদ্যসামগ্রীর জন্য লাইনে দাড়াঁতেও পারছিনা। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘বড় লোকের টাকার অভাব নেই। গরীবরা ত্রাণ পায়। আর মধ্যবিত্তরা না খেয়ে চোখের পানি লুকায়’।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভাই চাকরি করেন একটি বেসরকারী স্কুলে, দেশের এই দুর্যোগের সময় কেমন আছে জানতে চাইলে তিনি বললেন, মার্চের ১৫ তারিখ থেকে স্কুল ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দীঘদিন যাবৎ এই পেশার সাথে যুক্ত থাকলেও নাম মাত্র বেতনে শিক্ষা দিয়ে আসছেন। বেঁচে থাকার একমাত্র ভরসা টিউশনি, একমাস ধরে স্কুল ছুটি থাকায় টিউশনিও নেই, টাকা-পয়সা নেই। মুখ ফুটে কাউকে কিছু বলতেও পারছি না। কোনোরকম খেয়ে না খেয়ে জীবনযাপন করছি। এ অবস্থায় সরকার ও বিত্তশালীরা মধ্যবিত্তের পাশে এগিয়ে না এলে আমরা বিপদে পড়ব আরও বেশি।’শিগগিরিই এ পরিস্থিতি কেটে না গেলে সামনের দিনগুলো তার জন্য ভয়াবহ।

সরকার ও বিত্তশালীদের বলবো, আপনারা যেভাবে নিম্নবিত্তদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তেমনি মধ্যবিত্তদের পাশে দাঁড়ান। তাদের দিকে নজর দিন।

ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি সেফটিনেটের বাইরে থাকা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে তালিকা তৈরি করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তার কোনো বাস্তবায়ন চোখে পড়ছে না, বাস্তবায়ন না হলে করোনায় নয়, না খেতে পেয়ে মারা যাবে,তাদের প্রতি করুনা করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো সংবাদ
© নাগরিক এক্সপ্রেস । সর্বসত্ব সংরক্ষিত। নাগরিক এক্সপ্রেস এর প্রকাশিত প্রচলিত কোনো সংবাদ তথ্য ছবি আলোকচিত্র রেখা চিত্র ভিডিও চিত্র অডিও কনটেস্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামত এর জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ণ লেখক এর
Theme Customized By Theme Park BD