1. admin@nagorikexpress.com : নাগরিক এক্সপ্রেস : Nagorik Express প্রশাসন
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৯:০৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মোহনপুরে মেম্বার প্রার্থী উম্মূল আয়মার উঠান বৈঠক মতলব উত্তরের মোহনপুর ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব হাবিবুর রহমান হাফিজ তপদার দলীয় মনোনয়ন ফরম দাখিল বারদী ইউ,পি,তে ০৮নং ওয়ার্ডের পুনরায় মেম্বার পদে মোঃ বাবুল মিয়া ‘র গণসংযোগ।    জহিরুল ইসলাম খোকনের আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ! লৌহজংয়ে শেখ রাসেল দিবস পালিত আতিকুল ইসলাম শিমুলের সাথে আ’লীগ নেতৃবৃন্দের মতবিনিময়  রাজশাহীতে ৬ জনের মৃত্যু কুরআন অবমাননার সাথে জড়িতদেরকে অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে শাস্তি নিশ্চিৎ করুন সোনারগাঁওয়ের নির্বাহী অফিসার সাথে ঈদে মিলাদুন্নাবীর মইনীয়া যুব ফোরামের মতবিনিময়। লৌহজংয়ে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা

বাচ্চার দুধ কিনতে পারছি না”

  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২০
  • ৩৭৪ সময় দেখা

“বাচ্চার দুধ কিনতে পারছি না”
সৈয়দ নিলয়, স্টাফ রিপোর্টার,ঢাকা।

‘আঙ্কেল, অনেক কষ্টে আছি, টাকার অভাবে বাচ্চার জন্য দুধ কিনতে পারছি না’—ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে এমন খুদে বার্তা পাঠিয়ে এক পরিচিতজনের কাছে সহায়তা চেয়েছেন এক তরুণী গৃহবধূ। নিম্নবিত্ত পরিবারটির একমাত্র আয়ের উৎস ছোট্ট দোকানটি বন্ধ। ত্রাণ চাইতে লজ্জা লাগার মতো অবস্থায় তিনি এখন নেই। কিন্তু কোথাও থেকে ত্রাণ জোটেনি। নিরুপায় হয়ে পরিচিতজনের কাছে এভাবেই সহায়তা চেয়েছেন তিনি।

ঢাকার সাভারের দেওগাঁও গ্রামের ওই তরুণীর (১৮) বাড়িতে গিয়ে খাবার ও সন্তানের দুধ কিনে দিয়ে আসেন শুভাকাঙ্ক্ষী ব্যক্তি।
সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকার চৌরঙ্গী বিপণিবিতানে স্বল্পমূল্যের জামাকাপড় বিক্রির ছোট একটি দোকান রয়েছে তাঁদের। ধারদেনা করে তাঁর স্বামী আর ভগ্নিপতি মিলে কয়েক বছর আগে ওই ব্যবসা শুরু করেন। দোকানের আয় থেকে কোনো রকমে তাঁদের সংসার চলছিল। তাঁর ছয় মাসের একটি সন্তান রয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ২০ দিন ধরে দোকান বন্ধ। মাত্র সাড়ে চার হাজার টাকা নিয়ে তাঁরা বাসায় ঢুকেন। কয়েক দিনের মধ্যেই ওই টাকা শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে তাঁদের ঘরে কোনো টাকা নেই। খাবার নেই। টাকার জন্য সন্তানের দুধ কিনতে পারছেন না।

ওই তরুণী বলেন, খাবারের অভাবে তাঁর সন্তান অপুষ্টিতে ভুগে শুকিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় তাঁরা কয়েক দিন আগে একই এলাকায় বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু বাবার পরিবারের অবস্থাও ভালো না। তাঁর বাবা দৈনিক পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফুটপাতের একটি মাছের দোকানে কাজ করতেন। করোনাভাইরাসের কারণে সেই দোকানও বন্ধ।

ওই নারী বলেন, তাঁর বাবা ও তাঁর পরিবারের কেউ ত্রাণ পাননি। তাঁদের কেউ খোঁজও নেননি।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত সাভার উপজেলায় ১৩০ মেট্রিক টন চাল ও ৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে পাশের ধামরাই উপজেলায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১০০ মেট্রিক টন চাল ও ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এর মধ্যে শিশু খাদ্যের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৬০ হাজার টাকা করে। এ ছাড়া সাভার পৌরসভার পক্ষ থেকেও ত্রাণের জন্য ২৪ লাখ টাকার চাল কেনা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার পর্যন্ত দুই উপজেলায় ২৩০ মেট্রিক টন চাল আর ১০ লাখ ২০ হাজার টাকার বরাদ্দ দেওয়া হলেও অনেক অসহায় মানুষ ত্রাণ পায়নি। অনেক মানুষ কাজ করতে না পেরে চরম কষ্টের মধ্যে রয়েছে।

সাভারের ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাভারে বিভিন্ন ইউনিয়নে চেয়ারম্যানদের অনুকূলে বিভিন্ন হারে সরকারি চালের বরাদ্দ দেওয়া হলেও গত মঙ্গলবার পর্যন্ত তাঁদের কোনো নগদ অর্থ দেওয়া হয়নি। আর ধামরাইয়ে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রতিটি ইউনিয়নে দেড় মেট্রিক টন করে চালের সঙ্গে ৭ হাজার ৫০০ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি ত্রাণ পাননি পৌর এলাকার ড্রেন মার্কেট এলাকার এক নারী। বয়স্ক স্বামী কাজ করতে পারেন না। এবাড়ি ওবাড়ি কাজ করে যা পেতেন, তাতে তাঁদের সংসার কোনো রকমে চলে যেত। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকে তাঁকে কেউ কাজে নেয় না। এরপর থেকেই পরিবারটি অর্থকষ্টে পড়েছে।

পোশাক কারকানায় কাজ করেন সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনির এক নারী। বছরখানেক আগে তাঁর স্বামী মারা যান। এরপর থেকে স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে তিনি কোনো রকমে চলছিলেন। করোনাভাইরাসের কারণে কারখানা বন্ধ থাকায় তাঁর ভবিষ্যত অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, কারখানা বন্ধ হওয়ার আগে যে বেতন পেয়েছিলেন, তা শেষ হয়ে গেছে। টাকার অভাবে তিনি বাসা ভাড়া ও দোকানের বকেয়া পরিশোধ করতে পারছেন না। এ অবস্থায় সহায়তা ছাড়া তাঁর টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। কিন্তু তিনি কোনো সহায়তা পাচ্ছেন না।

সাভারের আমিনবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত তিনি উপজেলা পরিষদ থেকে সাড়ে তিন টন চাল পেয়েছেন। বিতরণ করেছেন। তাঁকে কোনো নগদ টাকা দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, তাঁর ইউনিয়নে আরও অনেক অসহায় মানুষ রয়েছে, যাঁদের কষ্টে দিন চলছে। কিন্তু ত্রাণের অভাবে তাঁদের সহায়তা করা যাচ্ছে না।

ধামরাইয়ের কুল্লা ইউপি চেয়ারম্যান কালিপদ সরকার বলেন, অসহায় মানুষের তুলনায় ত্রাণ কম পাওয়া গেছে। এ কারণে সবাইকে ত্রাণ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

সাভারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজুর রহমান বলেন, গত মঙ্গলবার পর্যন্ত যে ২০ টন চাল বরাদ্দ করেছেন, তা বিতরণ করেছেন। বাকি চাল পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুই লাখ টাকা হাতে রেখে বাকি টাকা তিনি বিভিন্ন দ্রব্য কিনে বিতরণ করেছেন।

একই রকম কথা বললেন ধামরাই ইউএনও সামিউল হক। তিনি বলেন, তিনি নিজে ২০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করে বাকি চাল পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে ভাগ করে দিয়েছেন।

অনেক অসহায় মানুষের ত্রাণ না পাওয়া প্রসঙ্গে দুই ইউএনও বলেন, তালিকা পেলে তাঁদেরও ত্রাণ দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো সংবাদ
© নাগরিক এক্সপ্রেস । সর্বসত্ব সংরক্ষিত। নাগরিক এক্সপ্রেস এর প্রকাশিত প্রচলিত কোনো সংবাদ তথ্য ছবি আলোকচিত্র রেখা চিত্র ভিডিও চিত্র অডিও কনটেস্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামত এর জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ণ লেখক এর
Theme Customized By Theme Park BD
error: Content is protected !!