1. admin@nagorikexpress.com : নাগরিক এক্সপ্রেস : Nagorik Express প্রশাসন
বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:২৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
শেখ রাসেল পরিষদ এর নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হলেন আল-মামুনুর রশিদ। লৌহজংয়ে নৌকা প্রতীক থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় চার চেয়ারম্যান নির্বাচিত লৌহজংয়ে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা ফজলুল হক মণির ৮৩ তম জন্মবার্ষিকী পালিত যশোরে শেখ মণির জন্মদিনে দোয়া-মিলাদ অনুষ্ঠিত জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা-২০২১  উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মতলবে পুস্তক প্রকাশক বিক্রেতা সমিতির বর্ধিত সভা লৌহজংয়ে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় স্বতন্ত্রপ্রার্থীর ছেলে আহত মতলবে তিন কেজি গাঁজাসহ দুই যুবক আটক মতলব মুক্ত দিবস পালিত ৫ম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পুনঃ তফসিল প্রসঙ্গে।

বেতন পাইনা রিলিফ ও দেয়না খামু কি

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২০
  • ৩২৯ সময় দেখা

নিজস্ব প্রতিবেদন নাঈম।

বেতনের জন্য প্রতিদিন রামপুরা ও মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় পোশাক কারখানাগুলোর সামনে ভিড় করা কয়েকজন নারী শ্রমিক বলেছেন, মাসের অর্ধেক চলে গেলেও বেতন না হওয়ায় খাবার যোগাড় করা নিয়েই মুশকিলে পড়েছেন তারা।
এদিকে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে চলমান লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকার থেকে ত্রাণ দেওয়া হলেও তা তারা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন এই পোশাক শ্রমিকরা।
“বেতন পাই না। রিলিফও পাই না। আমারা যেখানে থাকি হেখানে কিছু কিছু লোককে বাইছা বাইছা রিলিফ দিয়া যায়, আমাগো দেয় না,” দুঃখ করে বলেন রামপুরার বাসিন্দা কিশোরী আলেয়া।
বৃহস্পতিবার সকালে রামপুরা ও মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার কাছে কয়েকটি বন্ধ পোশাক কারাখানার সামনে নারী কর্মীদের বেতনের আশায় বসে থাকতে দেখা যায়।
এ সময় পাশের পুলিশ ভ্যান থেকে কর্মকর্তারা হ্যান্ড মাইকে ওই শ্রমিকদের বাসায় চলে যাওয়ার অনুরোধ করছিলেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণে এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে এভাবে এখানে বসে থাকা যাবে না বলে সতর্কও করছিলেন তারা।
এক পুলিশ পরিদর্শক মাইকে বলছিলেন, “বোনেরা আমরা তোমাদের পাশে আছি, তোমাদের সঙ্গে থাকব। তোমাদের দুঃখ-কষ্ট বুঝি।“তোমরা এখন চলে যাও। গার্মেন্ট বন্ধ। এই কারখানার মালিকের সাথে আলাপ করে তোমাদের জানানো হবে। এখন তোমরা বাসায় ফিরে যাও।”মালিবাগ চৌধুরীপাড়ার কাছে শাফিন গার্মেন্টের সামনে ২০-৩০ জন নারী শ্রমিক দেড় ঘণ্টা বসে থেকে পুলিশ সদস্যদের অনুরোধে চলে যান। কাছাকাছি আরেকটি গার্মেন্ট ‘বারগো’, সেখানে সকাল ১১টায় জড়ো হয়েছিলেন ৫০ জনের মতো নারী শ্রমিক। কারখানা বন্ধ থাকায় এক ঘণ্টা থেকে পুলিশের অনুরোধে চলে যান তারাও।রামপুরার এই সড়কের পথে পথে পুলিশের পিকআপ ভ্যান দাঁড়ানো দেখা যায়। যেখানে মানুষের জটলা সেখানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নিজ নিজ বাসায় চলে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছিলেন তারা।
কারখানার সামনে সমাবেশ থেকে মুখে কাপড়ের মাস্ক পরা পোশাক শ্রমিক লায়লা নাগরিক এক্সপ্রেস বলেন “স্যার কাজ করি, বেতন দেয় না। আইজকা মাসের কত তারিখ?
“এখন আমরা কী করমু কন? আমরা গরিব মানুষ খাইতে পারি না, আমাগোরে রিলিফ দেয় না। কী খামু কন?”কত মাসের বেতন পান না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি দুই বছর ধইরা এই গার্মেন্টে কাজ করি। প্রতি মাসে সাড়ে ৭ হাজার টাকা বেতন পাইতাম। দুই মাসের বেতন বাকি। আইজকে মাসের ১৬ তারিখ, এখনো বেতন দেয় না মালিক। কী করতাম? কেমনে চলমু কন?”
লায়লার মতো শিউলীর মুখেও ছিল বিষাদের ছায়া।রামপুরায় চার-পাঁচজন একসঙ্গে একটি টিন শেড ঘরে থাকেন শিউলীরা। তারা সবাই মালিবাগের চৌধুরীপাড়ার পোশাক কারখানায় কাজ করেন।শিউলী বলেন, “গার্মেন্ট বন্ধ ঠিক আছে। আমাগো বেতনটা তো দিয়ে দিব। প্রত্যেক দিন আসি, গেইটের দারোয়ান কয়- মালিক নাই, সব কিছু বন্ধ।তাইলে আমরা কী খামু, কেমনে বাসা ভাড়া দিমু? কিচ্ছুই ভালা লাগে না।”শিউলীর বান্ধবী আলেয়া তাদের ত্রাণ না দেওয়ার অভিযোগ করেন।
ওমর আলী লেনের বাসিন্দা পোশাক কর্মী আমেনা এক মেয়ে ও স্বামী নিয়ে থাকেন ছোট্ট একটা ঘরে।
তিনি বলেন, “আইজকা কত দিন ধইরা গাড়ি বন্ধ, আমার জামাই সিএনজি চালায়। তার কামাই নাই।
“আমি গার্মেন্টে কাম করি, এখন বন্ধ। গার্মেন্টে বেতনের আশায় তিন দিন গেছি। কইছে ২৬ তারিখের পর জানাইব। তাহলে আমরা কী খামু কন?”
নভেল করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে সরকারি ছুটির পাশাপাশি লকডাউনের মধ্যে মানুষকে ঘরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। অধিকাংশ পোশাক কারখানাও বন্ধ রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকসহ বিভিন্ন জায়গায় কাজকর্ম ধীরগতির হওয়ায় ১৬ এপ্রিলের মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কারখানা মালিকরা।এদিকে কারখানার শ্রমিকদের বেতনের জন্য সরকার ৫ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে মালিকদের। ১৬ এপ্রিলের মধ্যে বেতন পরিশোধ না করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও মালিকদের হুঁশিয়ার করা হয়েছে।তারপরেও প্রতিশ্রুত সময়সীমা পার হওয়ার একদিন আগ পর্যন্ত বিজিএমইএর তালিকাভুক্ত অর্ধেক কারখানার শ্রমিকদের বেতন দেওয়া হয়নি।বেতন না পেয়ে বুধবারও আশুলিয়া, উত্তরা, বাড্ডা, ভাটারা,মিরপুর, ভাষানটেক, শাহআলি, তেজগাঁও, মতিঝিল এলাকায় শত শত শ্রমিক রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো সংবাদ
© নাগরিক এক্সপ্রেস । সর্বসত্ব সংরক্ষিত। নাগরিক এক্সপ্রেস এর প্রকাশিত প্রচলিত কোনো সংবাদ তথ্য ছবি আলোকচিত্র রেখা চিত্র ভিডিও চিত্র অডিও কনটেস্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামত এর জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ণ লেখক এর
Theme Customized By Theme Park BD
error: Content is protected !!