1. admin@nagorikexpress.com : নাগরিক এক্সপ্রেস : Nagorik Express প্রশাসন
বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ০৬:০৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
শেখ রাসেল পরিষদ এর নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হলেন আল-মামুনুর রশিদ। লৌহজংয়ে নৌকা প্রতীক থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় চার চেয়ারম্যান নির্বাচিত লৌহজংয়ে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা ফজলুল হক মণির ৮৩ তম জন্মবার্ষিকী পালিত যশোরে শেখ মণির জন্মদিনে দোয়া-মিলাদ অনুষ্ঠিত জাতীয় এসএমই পণ্য মেলা-২০২১  উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মতলবে পুস্তক প্রকাশক বিক্রেতা সমিতির বর্ধিত সভা লৌহজংয়ে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় স্বতন্ত্রপ্রার্থীর ছেলে আহত মতলবে তিন কেজি গাঁজাসহ দুই যুবক আটক মতলব মুক্ত দিবস পালিত ৫ম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পুনঃ তফসিল প্রসঙ্গে।

সদকায়ে ফিতরের হুকুম কী এবং কী পরিমাণ আদায় করবেন

  • আপডেট সময় : বুধবার, ২০ মে, ২০২০
  • ২৩৪ সময় দেখা

আবুল হাসান হাশেম তারাকান্দা(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধিঃ

.
যাকাতের নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। অর্থাৎ অত্যাবশ্যকীয় আসবাব সামগ্রী, ব্যবহার্য দ্রব্যাদি, বাসগৃহ ইত্যাদি বাদ দিয়ে অন্ততঃ সাড়ে বায়ান্ন তোলা তথা ৬১২.৩৬ গ্রাম রূপা অথবা সাড়ে সাত তোলা অর্থাৎ ৮৭.৪৮ গ্রাম স্বর্ণ কিংবা কিছু স্বর্ণ, কিছু রূপা ও কিছু টাকা সব মিলিয়ে সাড়ে বায়ান্ন তোলা তথা ৬১২.৩৬ গ্রাম রূপার সমমূল্যের (যা বর্তমান ঢাকার বাজার দর হিসেবে প্রতি ভরি রূপা ৯৩৩/= হিসেবে ৪৮,৯৮২ টাকা ৫০ পয়সা বা প্রায় ৪৯,০০০ [উনপঞ্চাশ হাজার] টাকা হয়) মাল-সম্পদ থাকলে, সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব হবে।

যাকাতের নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। অর্থাৎ অত্যাবশ্যকীয় আসবাব সামগ্রী, ব্যবহার্য দ্রব্যাদি, বাসগৃহ ইত্যাদি বাদ দিয়ে অন্ততঃ সাড়ে বায়ান্ন তোলা তথা ৬১২.৩৬ গ্রাম রূপা অথবা সাড়ে সাত তোলা অর্থাৎ ৮৭.৪৮ গ্রাম স্বর্ণ কিংবা কিছু স্বর্ণ, কিছু রূপা ও কিছু টাকা সব মিলিয়ে সাড়ে বায়ান্ন তোলা তথা ৬১২.৩৬ গ্রাম রূপার সমমূল্যের সম্পদ থাকলে, সদকায়ে ফিতর আদায় করা ওয়াজিব হবে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত হাদীস শরীফে রয়েছে, তিনি বলেন–
فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم صدقة الفطر ، صاعا من شعير أو صاعا من تمر ، على الصغير والكبير ، والحر والمملوك
“রাসূলুল্লাহ (সা.) সদকাতুল ফিতর আদায় করাকে আবশ্যক করেছেন। এর পরিমাণ হলো, এক সা যব বা এক সা খেজুর। ছোট-বড়, স্বাধীন-পরাধীন সবার ওপরই এটা আবশ্যক। (সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১৫১২)

যাকাত ফরজ হওয়ার জন্য নিসাব পরিমাণ মাল-এর এক বছর অতিক্রান্ত হওয়া শর্ত, কিন্তু সদকায়ে ফিতরের ক্ষেত্রে সেই শর্ত নেই। বরং ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় এ পরিমাণ মালের মালিক থাকলে, তার উপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হবে।

আপনার নিজের এবং আপনার পোষ্যদের সদকায়ে ফিতর বা ফিতরা আপনাকে আদায় করতে হবে। এমনকি আপনার যে শিশু-সন্তানটি ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের পূর্বে ভূমিষ্ট হবে, তার ফিতরাও আদায় করতে হবে। এভাবে আপনার ও আপনার নাবালিগ সন্তানদের বা যতজনের ভরণ-পোষণ আপনি করেন, তাদের সকলের জনপ্রতি এক ফিতরার হিসাব ধরে (অর্থাৎ পরিবারের যতজন সদস্য ততটি ফিতরা হিসেবে) সকলের ফিতরা আদায় করবেন।
.

সদকায়ে ফিতর কী পরিমাণ আদায় করবেন :

সদকায়ে ফিতর বা ফিতরা ৫ প্রকার দ্রব্য দিয়ে দেয়ার বর্ণনা হাদীস শরীফে রয়েছে। তবে সেসবগুলো সমান মূল্যমানের নয়। সুতরাং এ মূল্য-ব্যবধান দ্রব্যসমূহ থেকে কোন একটা নির্বাচন করতে হবে আপনার আর্থিক দিক বিবেচনা করে।

আপনি যদি নিম্নবিত্তবান হন, অর্থাৎ আপনার নিকট নিসাব পরিমাণ মাল-সম্পদ নেই বা আপনি অবস্থাশালী নন, কিন্তু আপনি ফিতরা আদায় করতে চাচ্ছেন, অথবা যদি আপনি নিম্নমধ্যবিত্ত হন তথা আপনি সর্বনিম্ন নিসাব পরিমাণ মালের মালিক হন, তাহলে আপনি গম বা আটার হিসেবে ফিতরা আদায় করতে পারেন। গম বা আটা হিসেবে অর্ধ সা‘ বা এক কেজি ৬৫০ গ্রাম আটা বা এর বাজার মূল্য ৭০ (সত্তুর) টাকা হয়। তা দ্বারা আপনি আপনার নিজের ফিতরা ও আপনি যাদের খোরপোশ বহন করেন,তাদের সকলের ফিতরা সেই হারে (যত জন তত ফিতরা) হিসেব করে আদায় করবেন।

আর যদি নিম্ন-মধ্যবিত্তবান হন বা আপনার নিকট নিসাবের চেয়ে কিছু বেশী মাল থাকে, তাহলে আপনি অন্ততঃ যব দ্বারা ফিতরা আদায় করতে পারেন। যব হিসেবে এক সা’ তথা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম যব বা এর বাজার মূল্য ২৭০ (দুইশত সত্তুর) টাকা হয়। তা দ্বারা আপনি আপনার নিজের ফিতরা ও আপনি যাদের খোরপোশ বহন করেন,তাদের সকলের ফিতরা সেই হারে (যত জন তত ফিতরা) হিসেব করে আদায় করবেন।

আর যদি আপনি মধ্যবিত্তবান হন বা আপনার নিকট নিসাবের দ্বিগুণ পরিমাণ মাল থাকে, তাহলে আপনি অন্ততঃ খেজুর দ্বারা সদকায়ে ফিতর আদায় করতে পারেন। ভাল মানের খেজুর হিসেবে এক সা‘ বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম খেজুর বা এর বাজার মূল্য ১,৬৫০ (একহাজার ছয়শত পঞ্চাশ) টাকা হয়। অথবা সাধারণ মানের খেজুর হিসেবে ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম সাধারণ খেজুর বা এর বাজার মূল্য ৬৬০ (ছয়শত ষাট) টাকা হয়। তা দ্বারা আপনি আপনার নিজের ফিতরা ও আপনি যাদের খোরপোশ বহন করেন,তাদের সকলের ফিতরা সেই হারে (যত জন তত ফিতরা) হিসেব করে আদায় করবেন।

আর যদি আপনি উচ্চমধ্যবিত্তবান হন বা কয়েকগুণ নিসাব পরিমাণ মালের মালিক হন, তাহলে আপনি অন্ততঃ কিসমিস দ্বারা সদকায়ে ফিতর আদায় করতে পারেন। কিসমিস হিসেবে এক সা‘ বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম কিসমিস বা এর বাজার মূল্য ১৫০০ (এক হাজার পাঁচশত) টাকা হয়। তা দ্বারা আপনি আপনার নিজের ফিতরা ও আপনি যাদের খোরপোশ বহন করেন,তাদের সকলের ফিতরা সেই হারে (যত জন তত ফিতরা) হিসেব করে আদায় করবেন।

আর যদি আপনি উচ্চবিত্তশালী বা অবস্থাসম্পন্ন ধনী হন বা অনেক সম্পদের মালিক হন, তাহলে আপনি পনির দ্বারা সদকায়ে ফিতর আদায় করতে পারেন।
খেজুর দ্বারা ফিতরা আদায় করা বাঞ্ছনীয়। আর আপনার অবস্থাভেদে উন্নত মানের খেজুর বা সাধারণ মানের খেজুর দ্বারা ফিতরা আদায় করতে পারেন। পনিরের হিসেবে এক সা‘ বা ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম পনির বা এর বাজার মূল্য ২,২০০ (দুই হাজার দুইশত) টাকা হয়। তা দ্বারা আপনি আপনার নিজের ফিতরা ও আপনি যাদের খোরপোশ বহন করেন,তাদের সকলের ফিতরা সেই হারে (যত জন তত ফিতরা) হিসেব করে আদায় করবেন।

এখানে সম্পদভেদে সদকায়ে ফিতরের যে পরিমাণের কথা বলা হলো, এক্ষেত্রে যে কেউ যে কোনটা দিয়েও সদকায়ে ফিতর আদায় করলে তা আদায় হয়ে যাবে। কিন্তু আমাদের দেশে সাধারণত সর্বনিম্ন রেট তথা অর্ধ সা‘ গম-এর মূল্য হিসেবে জনপ্রতি ৭০ টাকা হিসেবে সবাই আদায় করতে চান, তা ঠিক নয়। বরং এটা তো সর্বনিম্ন সম্পদের মালিকের জন্য চলে, কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা যাদেরকে ওয়াসা‘আত দিয়েছেন, তাদের অন্যান্য দ্রব্য দিয়ে বেশী রেটের সদকায়ে ফিতর আদায় করা উচিত। যেমন, হযরত সাহাবায়ে কিরাম (রা.) অধিকাংশই খেজুর দিয়ে সদকায়ে ফিতর আদায় করতেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরো সংবাদ
© নাগরিক এক্সপ্রেস । সর্বসত্ব সংরক্ষিত। নাগরিক এক্সপ্রেস এর প্রকাশিত প্রচলিত কোনো সংবাদ তথ্য ছবি আলোকচিত্র রেখা চিত্র ভিডিও চিত্র অডিও কনটেস্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামত এর জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ণ লেখক এর
Theme Customized By Theme Park BD
error: Content is protected !!