
বিশেষ প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য:
পেশা পরিবর্তন নতুন কিছু নয়, তবে রাতারাতি দালাল থেকে সাংবাদিক! এমন অবিশ্বাস্য রূপান্তরের ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সাইফুল ইসলাম—যিনি সম্প্রতি নিজেকে পরিচয় দিচ্ছেন ‘আধুনিক সংবাদ’ পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে।
দীর্ঘদিন ধরে সাইফুল ইসলামকে দেখা যেত ভূমি অফিস ও সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দালালীর মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন অফিস চত্বরে পরিচিত ছিলেন একজন চিহ্নিত দালাল হিসেবে।
তবে সম্প্রতি তাঁর পরিচয়ে নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে। নিজেকে এখন সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন তিনি। ঘুরে বেড়াচ্ছেন প্রেস-আইডি কার্ড ঝুলিয়ে। বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
ভূমি অফিসের এক কর্মচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“একসময় সাইফুল ভাই আমাদের অফিসে দালালি করতেন। আজ হঠাৎ দেখি উনি সাংবাদিক! এটা কিভাবে সম্ভব?”
স্থানীয় সিনিয়র সাংবাদিকরা বলছেন, অনিয়ন্ত্রিত ও যাচাইবিহীনভাবে গজিয়ে ওঠা অনলাইন মিডিয়াগুলোর কারণে আজ প্রকৃত সাংবাদিকতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। কেউ কিছুই না জেনে, না বুঝে, শুধুমাত্র একটি আইডি কার্ড বানিয়ে সাংবাদিক সাজছে।
একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বলেন,
“দালালরা যদি আজ সাংবাদিক হয়ে যায়, তবে পেশার মর্যাদা রক্ষা করাই কঠিন হয়ে পড়বে। সাংবাদিক হতে হলে শিক্ষাগত যোগ্যতা, নৈতিকতা এবং তথ্য যাচাইয়ের ক্ষমতা থাকা জরুরি।”
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাপ্তাহিক ‘আধুনিক সংবাদ’-এর সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেছেন সাইফুল ইসলাম। তবে স্থানীয়ভাবে পত্রিকাটির কোনো স্বীকৃতি কিংবা কার্যক্রম দেখা যায়নি বলেই জানিয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। এবিষয় সাইফুল মুঠোফোনে তার সাংবাদিকতার হওয়ার কারনটি বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এরিয়ে যান। আধুনিক পত্রিকার সম্পাদককে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার একাধিক বার চেষ্টা করলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সাধারণ মানুষ বলছেন, দালালদের কাছে সাংবাদিকতার ছদ্মবেশ হয়ে উঠেছে আরেকটি নতুন ব্যবসার রাস্তা। কেউ কেউ বলেন,
“আগে যেভাবে কমিশন খেত, এখন সাংবাদিক পরিচয়ে বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করে সুবিধা নিচ্ছে।”
সাংবাদিকতা শুধুই একটি পেশা নয়—এটি একটি দায়িত্বশীল ব্রত, যার মাধ্যমে সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরা হয় এবং জনস্বার্থে কাজ করা হয়। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি এই মহান পেশাকে ব্যবহার করছেন ব্যক্তিস্বার্থে। এটি শুধু দুঃখজনক নয়, ভয়ংকরও বটে।
স্থানীয়রা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছেন—স্বঘোষিত সাংবাদিকতার নামে পরিচয় বাণিজ্য বন্ধ করতে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
পরিচালনা পরিষদ:
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: তানজির আহম্মেদ সানি তপদার
সহ-সম্পাদক রুবেল শিকদার
জুনিয়র সহ-সম্পাদক: নাজমুল হাসান
মামুন
উপদেষ্টা মন্ডলীর সভাপতি: কাজী
হাবিবুর রহমান
মোঃ নুরুল হক সরকার(উপদেষ্টা)
মেহেদী হাসান স্বপন (উপদেষ্টা)
জসিম উদ্দিন তপদার (উপদেষ্টা)
উপদেষ্টা সাংবাদিক তুহিন ফয়েজ
হাজী আবুল হোসেন(উপদেষ্টা)
বার্তা সম্পাদক:আবু কাউছার আহমেদ
প্রকাশক: এডিটর: রাহুল