
মো: তুহিন ফয়েজ, মতলব উত্তরে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে যুবকের মৃত্যু ৷ সালিশি দরবারে রায় হওয়া আড়াই লক্ষ্য টাকা দিতে গরিমশির অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের ৷
এক মাত্র ছেলেকে হারিয়ে পাগল প্রায় তিনি ৷ এলাকাবাসী করে দিবে সমাধান তাই থানাই করেন তিনি মামলা ৷ বর্তমানে বিচারের রায়ের টাকা না পেযে হতাশায় ভূগছেন এক মাত্র ছেলে হারা বাবা মো: মনির হোসেন ৷
জানা যায়,গত ২০ জুন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ধনাগোদা নদীতে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মাছ ধরতে যান ফরাজিকান্দী ইউনিয়নের বালুচর গ্রামের মো: মনির হোসেন মজুমদারের ছেলে আল আমিন ওরফে মো: মিনহাজ মজুমদার (২২ ) একই গ্রামের কবির প্রধানের ছেলে শিবলু প্রধান (২২),আরপ আলী মাঝির ছেলে আমির হোসেন (৪৫) ৷ রাত সাড়ে ১২ টার সময় ইলেকট্রিক শক লাগা একটি বড় মাছ ধরতে আল আমিন ওরপে মো: মিনহাজ পানিতে লাফ দেয়। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অজ্ঞান হয়ে গেলে শিবলু ও আমির হোসেন আল আমিনকে পানি থেকে উঠিয়ে নৌকায় শুয়ে রেখে তারা মাছ ধরতে থাকেন ৷পরে আল আমিন মারা গেছে টের পেয়ে ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে জনতা বাজার সংলগ্ন নদীর পাড়ে নৌকা রেখে শিবলু ও আমির হোসেন পালিয়ে যায় বলে জানা যায় ৷
মো: মনির হোসেন জানান, (২১ জুন) সকালে জনতা বাজারে গিয়ে দেখি নদীর পাড়ে অনেক মানুষের ভীর কাছে গিয়ে দেখি একটি নৌকায় আমার ছেলে আল আমিন অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে আছে আমি তাৎক্ষনিক স্থানীয় লোকজনের সহযোগীতায় মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার আমার ছেলে আল আমিনকে মৃত ঘোষনা করেন ৷ পোষ্টমর্ডেম করে ছেলেকে দাফন- কাফন করি ৷
আগের দিন এশার নামাজের পর শিবলু ও আমির হোসেন আমার বাড়ীতে এসে বশি দিয়ে মাছ ধরার কথা বলে ডেকে নেয় আমার ছেলে যাইতে চায় নাই তারা জোরকরে আমার ছেলেকে ঘর থেকে মাছ ধরার কথা বলে নিয়ে যায় ৷
আমি থানায় মামলা করতে চাইলে এলাকাবাসী সালিশি দরবারের মাধ্যমে বিচার করে দিবে বলে আমাকে মামলা করতে দেয় নাই ৷
ঘটনার ৫দিন পর দেওয়ান আব্দুল খালেক মিনু,আনোয়ারুজ্জামান লালমিয়া,হুমায়ুন মোল্লা,বিল্লাল মিজি,করিম মজুমদার,রফিক মজুমদার,রাসেল বকাউলসহ স্থানীয় সালিশিগণ (২৫ জুন ) বুধবার ফরাজিকান্দী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডে মোশারফ হোসেন গাজীর বাড়ীতে অনুষ্ঠিত একটি সালিশি দরবারের মাধ্যমে রায়ে শিবলুকে ১লক্ষ্য ৫০ হাজার টাকা,আমির হোসেন কে ১ লক্ষ্য ৫০ হাজার টাকা এবং নৌকার মালিক ইব্রাহীম দেওয়ান (৪৫) কে ১ লক্ষ্য টাকাসহ মোট ৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এর মধ্যে পরের বুধবারে আমাকে ২ লক্ষ্য ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা এখন পর্যন্ত আমাকে টাকাও দেয় নাই এবং আমার কোন খোজ- খবরো নেয়নি তারা ৷ আমি দরবার মানছি তাদের রায় অনুযায়ী বিচার না পাইলে আমি আইনের আশ্রয় নিবো এবং আমার ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাইবো ৷
এদিকে নিহতের পরিবারকে আড়াই লক্ষ্য টাকা দিবে মাত্র৷ আর থানা পুলিশকে দিবে ১ লক্ষ্য ৫০ হাজার টাকা এ নিয়েও এলাকায় নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে ৷
নিহত আল আমিন ওরফে মো: মিন হাজের মা খোদেজা বেগম বলেন, আমার ছেলে রাজমিস্ত্রির কাজ করতো সে যাইতে চায় নাই শিবলু ও আমির হোসেন আমার ছেলেকে জোর কইরা মাছ ধরার কথা কইয়া ঘর থেকে নিয়ে গেছে তারাই আমার ছেলের খুনি সমাজবাসী বিচার করছে আমরা উপযুক্ত বিচার না পাইলে মামলা করমু এবং আমার ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁশী চাইবো ৷
এদিকে সালিশিদের কয়েজন বলেন,
দরবারের মাধ্যমে ৩ জনকে জরিমানা করা হয়েছে ২ জনে টাকা দিয়েছে বাকী ১জনে টাকা দেয় নাই তাই মনির হোসেন কে টাকা দিতে দেরি হয়তেছে ৷ আমরা চেষ্টা করছি টাকা আদায় করে বিষয়টি সামাজিকভাবে মিমাংশা করার জন্য ৷ বাকী ১ জনে টাকা না দিলে যে ২জন টাকা দিয়েছে তাদের টাকা আমরা ফিরিয়ে দিবো তার পর মো: মনির হোসেন মজুমদার আইনের আশ্রয় নিবে বা মামলা করবে যা করার তা করবে৷
স্থানীয় কয়েক জন জানান,বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অজ্ঞান হওয়ার পর নৌকায় শুয়ে না রেখে সাথে সাথে আল আমিন কে হাসপাতালে নিয়ে গেলে হয়তো সে বেচেঁ যেতো আল আমিনের মৃত্যুর জন্য যারা সাথে ছিলো তারাই দায়ী ৷
এদিকে একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে সুষ্ট বিচার পাওয়ার আশায় সমাজের সালিশি দরবারীদের কাছে গিয়ে কোন সমাধান পাচ্ছেন না বলে নিহত আল আমিন ওরপে মো: মিন হাজের পিতা মো: মনির হোসেন মজুমদার স্থানীয় সাংবাদিকদের কে জানান ৷ তিনি বলেন, সমাজিকভাবে উপযুক্ত বিচার না পাইলে আমি মামলা করমু এবং আমার ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসী চাইবো ৷
মতলব উত্তর থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান,এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু ডায়রী হয়েছে। লাশ তদন্তের পর পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে ।