
দেওয়ান মুরাদুজ্জামান (মতলব প্রতিনিধি), চাঁদপুর: ১৪ ডিসেম্বর শনিবার বিকেলে চাঁদপুরের মতলব উত্তরের পূর্ব হানিরপাড় নয়াবাড়ি মসজিদ কমিটির বিপক্ষে মসজিদের গাছকাটাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে চলমান অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেন মসজিদ কমিটির সদস্যরা। জানা যায়, মসজিদের পাশে একটা কাচা রাস্তা আছে ; যেটা দিয়ে বর্ষার সময় কর্দমাক্ত হয়ে গেলে মুসল্লিদের অনেক কষ্ট হয়। তাই মসজিদ কমিটি ঐ কাচা রাস্তা পাঁকা করার সিদ্ধান্ত নেয় কিন্তু কাচা রাস্তার মধ্যে দুটো গাছ থাকায় তা কাটার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। মসজিদ কমিটি ঐ গাছকাটার সিদ্ধান্ত নিলে মসজিদ কমিটির সভাপতি, সেক্রেটারি ও অন্যান্য সদস্যদের উপর অতর্কিত হামলা করেন দিদার বক্সের ছেলে নাসির উদ্দীন(৩০), রেহান উদ্দিন(২৭), শাহাবুদ্দিন (২৫) এবং মৃত সোবহানের ছেলে আবদুল হালিম। তারা গাছকাটার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে এবং কমিটির সভাপতি -সেক্রেটারিকে আওয়ামীলীগের দালাল বলে অপপ্রচার চালায়। তাই মসজিদ কমিটির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে হামলা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ প্রতিবাদ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেয়। কমিটির সভাপতি জানান, আমরা মুসল্লীদের সুবিধা অসুবিধার দাবিতেই কাঁচা রাস্তা পাকাঁ করার সিদ্ধান্ত নেই। কাজেই রাস্তা পাঁকা করতে গিয়ে যদি গাছ কাটতে হয় তাতেও সবাই সর্বসম্মতিক্রমে সমর্থন দেয় কিন্তু উল্লেখিত চার জন এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে অবস্থান নেয় এবং প্রতিবাদে শেষপর্যন্ত সভাপতি সেক্রেটারিকে আক্রমণ করে বসেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উল্টো আক্রমণকারী পক্ষই মতলব উত্তর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন সভাপতি ও সেক্রেটারিকে প্রধান আসামী করে। যার মামলা নং দঃবিঃ ১৪৩/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩২৫/৩০৭/৩৫৪/৫০৬(২)/৩৪ ধারা। তাই উপরোক্ত মিথ্যা মামলা ও হামলা ঘটনার প্রেক্ষিতে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এই সময় মসজিদ কমিটির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সেক্রেটারি আমির হোসেন কোষাধ্যক্ষ কবির হোসেন ও এলাকার সচেতন সুধীমহল উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। এসময় এলাকাবাসীর পক্ষে মুসল্লি আবু হানিফ বলেন, ঘটনার দিন আমি ও আমার ভাই ঢাকাতে একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে ছিলাম। তারপরেও আমাদের দুই ভাইয়ের নামে উদ্দেশ্য প্রনোদিত মামলা দিয়েছে। মসজিদের সভাপতি আবু বক্কর বলেন,মজার বিষয় হলো গাছগুলোও তো মসজিদেরই ছিল ; এগুলো তো আর মামলা হামলাকারীদের ব্যক্তিগত সম্পদও ছিলনা। কাজেই মসজিদ কমিটি তথা মুসল্লিদের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে এরা আমাদের উপর এই বর্বর হামলা চালাতে পারেনা। এছাড়া তারা মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সেক্রেটারিসহ নিরীহ মুসল্লিদের নামে মামলা করেছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। আসলে ওরা আওয়ামী আমলের ফ্যাসিবাদের দোসর। ওরা আওয়ামীলীগ আমলেও মানুষকে এইভাবে মামলা হামলায় যন্ত্রণা করতেন। তাই এলাকাবাসী এই হামলা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবী করেন।