
ভাঙ্গা( ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ৮ নং চুমুরদী ইউনিয়নে দুস্থ হতদরিদ্র পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত চাল আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাল না পেয়ে এবং পরিবারগুলোর চাল আত্মসাতের খবরে ক্ষতিগ্রস্থরা হতাশা ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। জানা গেছে, ওই ইউনিয়নের ১ নং ও ২ নং ওয়ার্ডের ৫/৭ জন অসহায় ও দুঃস্হ পরিবার বিগত ৫ মাসের ১৫০ কেজি করে চাল না পেয়ে ঐ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের অফিস কক্ষের সামনে গিয়ে মঙ্গলবার (২০ মে) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত অবস্হান করেন। এদের মধ্যে হতদরিদ্র মা-বাবা- শিশু- বিধবা নারী রয়েছেন।
স্থানীয় কয়েকজন সংবাদ কর্মী খবর পেয়ে ঐ ইউনিয়ন পরিষদে গেলে সকাল ৯ টা থেকে ১১ ঘটিকা পর্যন্ত পরিষদের কাউকে পাওয়া না গেলেও দুঃস্হ ও অসহায় পরিবারগুলোর তিনটি শিশুসহ ৬-৭ জন সদস্যকে পাওয়া যায়।
জানা যায় সরকারী নির্দেশনায় দেশের প্রত্যেক উপজেলায় ” দুঃস্হ মহিলা উন্নয়ন কর্মসুচির( ভিজিডি)এর আওতায় “উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার একান্ত তদারকিতে বা তার একজন প্রতিনিধির মাধ্যমে শিশুদের নামে ইস্যু করা এই চালগুলো ইউনয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের মাধ্যমে বিতরন করার বিধান রয়েছে।
সে মোতাবেক স্হানীয় এলএসডি কর্মকর্তা ডিওর চাল নির্বাহী অফিসারের অনুকূলে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে অবগত করে গুদাম থেকে উওোলন করে ইউপি চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট কার্ডদারীদের মাঝে বিতরন করবেন।
এছাড়া এই বিতরন করা চাল ৩০ কেজির বস্তায় প্রত্যেক কার্ধারী মোট ১৫০ কেজি অথবা ৫০ কেজির বস্তায় ৩ বস্তা করে প্রত্যক কার্ডধারী ১৫০ কেজি করে চাল পাবেন।
বিগত সরকার ওই চাল দুঃস্হ শিশুদের মাঝে ১৫০ কেজি চাল ৫ মাস পর পর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। নতুন সরকার ঐ কার্ডগুলো বাতিল না করায় পূর্বের ঐ কার্ডগুলোই বহাল আছে। নতুন করে ঐ শিশুদের নামেই ওই পরিমান চাল বরাদ্দ আসে। এ সুযোগে গত বৃহস্পতিবার (১৫ মে) ঐ ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের ইয়াদ আলী মেম্বার পুরনো কার্ডধারীদের মধ্যে অনেকের ৫ টি সই রেখে কাউকে ১ বস্তা ৫০ কেজি। কাউকে দুই বস্তা ১০০ কেজী করে চাল বিতরন করেন। এতে উপকারভোগীরা চাল বিতরণের কথা জানেও না। এর মধ্যে এক উপকারভোগীর বাড়িতে ভ্যানযোগে মেম্বার ইয়াদ আলী ৫০ কেজির এক বস্তা পাঠিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এক বিধবা নারী অভিযোগ করে বলেন, আ
উপস্থিত সংবাদ কর্মীদের কাছে অভিযোগ দেন দুঃস্হকার্ডধারীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
এ খবর সবার কাছে পৌঁছে গেলে এদের মধ্যে ৭/৮ জন ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে চাল কম দেওয়ার অভিযোগ দেওয়ার পর গত ১৫ মে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও ঘটনাস্থলে গিয়ে এর সত্যতা পান বলে জানা গেছে। এরই ধারাবাহিকতায়, গত তিনদিন ধরে ১৫০ কেজি চাল না পাওয়া এমন ৭/৮ জন সদস্যসহ নারীরা চেয়ারম্যান ও মেম্বারের কাছে জানালে কোন উওর পায়নি তারা।
এক পর্যায়ে দরিদ্র সালমা বেগম (বিধবা),তাসলিমা বেগম,লিপি বেগম স্বামীঃ আকতার, আকলিমা বেগম সহ অভিযোগ করে বলেন, মেম্বর ইয়াদের কাছে চাল চাইতে গেলে, তিনি বলেন, তোমার তিনটা সই করে কে যেন ১৫০ কেজি চাল নিয়ে গেছে আমি জানি না
এ ব্যাপারে ৮ নং চুমুরদি ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সোহাগ এবং ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ইয়াদ আলীর সাথে কথা হলে তারা বলেন অভিযোগ সত্য নয়। এ ব্যাপারে ভাঙ্গা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ইলা রানী কুন্ডেরর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, যাদের সাথে এই প্রতারনা করা হয়েছে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিলে তা আমি তদন্ত করে ব্যবস্হা নিবো।
বিষয়টি নিয়ে ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান বলেন , কোন অপরাধীর ছাড় হবে না।
মোঃ সরোয়ার হোসেন
ভাঙ্গা, ফরিদপুর।
মোবাঃ ০১৭৩১৭১১৯৪৭
তাং২০.০৫.২৫