
মোঃ আনোয়ার হোসেন আরিফ, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
সরকারি চাকরি বিধি লঙ্ঘন করে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হয়ে একজন পেশাদার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করায় তদন্তের মুখে পড়েছেন এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
চর ভূরুঙ্গামারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আমিনুর রহমান বাবু-এর বিরুদ্ধে সাংবাদিক মোঃ আনোয়ার হোসেন আরিফ, সভাপতি- বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শাখা ও দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ, ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রতিনিধি বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিস, ভূরুঙ্গামারী থেকে স্মারক নং: উশিঅ/ভূঃমারী/কুড়ি:/৬২৯ তারিখ: ১৭/০৯/২০২৫ খ্রিঃ অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অভিযোগে বলা হয়, সরকারি চাকরিতে থেকে আমিনুর রহমান বাবু সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হয়ে সরকারি চাকরি বিধি লঙ্ঘন করেছেন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন আরিফের বিরুদ্ধে ভুয়া, মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচার করেছেন, যা একজন পেশাদার সাংবাদিকের সুনাম ক্ষুন্ন করেছে।
সরকারি চাকুরি ২০১৮ বিধিমালার ৩৪ নম্বর বিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, “সরকারি কর্মচারীরা সরকারের পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে অন্য কোনো চাকুরি বা পেশায় নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।” অথচ ওই শিক্ষক সরকারি অনুমোদন ছাড়াই সাংবাদিকতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় এক সচেতন নাগরিক বলেন, “একজন সরকারি শিক্ষক পুরো সময় শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যস্ত থাকার কথা। কিন্তু সাংবাদিকতার মতো সময়সাপেক্ষ পেশা পালনের কারণে তিনি শিক্ষার ক্ষতি করছেন।”
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সরকারি চাকরি বিধি মোতাবেক সরকারী ও বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের সাংবাদিকতা করার সুযোগ নেই। কারণ সরকার তাদের বেতনের শতভাগ প্রদান করছে। তাছাড়া সাংবাদিকতা এখন একটি লাভজনক পেশা। সরকারি দপ্তরের বিজ্ঞাপন থেকে তারা পার্সেন্টেজ পাচ্ছেন।
এই ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষক সমাজ ও সাংবাদিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে বলেছেন, একজন সরকারি কর্মচারীর এধরনের আচরণ চাকরি বিধির পরিপন্থী এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।