1. admin@nagorikexpress.com : admin :
২২শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ| ৭ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ| বর্ষাকাল| বুধবার| দুপুর ১২:০৫|
নোটিশ :
পরিচালনা পরিষদ: সারাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ চলছে নিরপেক্ষ সংবাদ এর সন্ধানে আজই আপনার বায়োডাটা আমাদের ইমেইল এড্রেস এ পাঠিয়ে দিন অথবা হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন. আপনার প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান বিজ্ঞাপন আমাদের পত্রিকায় দিতে পারেন প্রতিটা পত্রিকার সাথে আমাদের বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন এবং আপনার বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন প্রতিটা নিউজের সাথে এবং বিজ্ঞাপনের সর্বোচ্চ স্তরে পৌছে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের . সকলের আইডি কার্ডের মেয়াদ শেষ। দ্রুত আইডি কার্ড সংগ্রহ করুন জনপ্রিয় পত্রিকা নাগরিক এক্সপ্রেস এর পক্ষ থেকে সবাইকে পরিচালনা পরিষদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন । বর্তমানে সারা বাংলাদেশে আইডি কার্ড ধারি আমাদের কোন সংবাদ কর্মী নেই যারা আছেন তাদের আইডি কার্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে তাই উক্ত সাংবাদিকগণ আমাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন বলে বিবেচিত হবে না। যদি কারো আইডি কার্ডের প্রয়োজন হয় তাহলে খুব শীঘ্রই আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন। আপনি কি সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান? আপনি কি সমাজের সমস্ত অন্যায় অপরাধ দুর্নীতির বিরুদ্ধে লিখতে চান? তাহলে আজই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন. নিরপেক্ষ সংবাদ এর সন্ধানে। আপনার এলাকায় ঘটে যাওয়া যেকোনো অনিয়ম দুর্নীতি আমাদের কাছে ইমেইলের মাধ্যমে পাঠাতে পারেন অথবা নিচে দেওয়া আমাদের নাম্বারে যোগাযোগ করতে পারেন সারাদেশে সাংবাদিক নিয়োগ চলছে সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে আজ ই আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন.

মোবাইল ব্যবসায়ীদের বৃবিতি ……….

Reporter Name
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১৩৯ বার পঠিত

বিবৃতি

গতকাল প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে হঠাৎ করে NEIR সিস্টেম চালু করা হয়েছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা আমাদের সকল ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ করে বিটিআরসির উদ্দেশ্যে রওনা হই। কারণ, আমদানি শুল্ক ও উন্মুক্ত আমদানি নীতিমালা নিয়ে লিখিত কোনো সরকারি বক্তব্য না আসা পর্যন্ত NEIR চালু করার কথা ছিল না।

অন্যদিকে, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী জনাব ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব স্পষ্টভাবে অঙ্গীকার করেছিলেন যে, মার্চ মাস পর্যন্ত কোনো ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই নেটওয়ার্কে সংযুক্ত থাকবে এবং ভবিষ্যতে সেগুলো কখনোই নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে না। এই অঙ্গীকারের ভিত্তিতেই আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থানে ছিলাম।

এই প্রেক্ষাপটেই আমরা গতকাল আনুমানিক দুপুর ২টায় বিটিআরসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলার উদ্দেশ্যে বিটিআরসি ভবনে উপস্থিত হই। সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরও চেয়ারম্যান মহোদয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এদিকে ভবনের বাইরে বিপুল সংখ্যক ব্যবসায়ী অবস্থান নিয়েছিলেন। বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও কোনো কাজ না করে NEIR চালু করে দেওয়ায় সবাই আগে থেকেই চরম ক্ষুব্ধ অবস্থায় ছিলেন।

আমরা ভেতরে বসে চেয়ারম্যান মহোদয়ের সাথে কথা বলার চেষ্টা করছিলাম। ঠিক সেই সময় কোথা থেকে, কীভাবে, কে বা কারা প্রথম বিটিআরসি ভবনের দিকে ঢিল ছোড়া শুরু করে, তা আমরা জানি না। এর পরপরই বাইরে অবস্থানরত ক্ষুব্ধ জনতার একটি অংশ ইট-পাটকেল নিক্ষেপে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমাদের প্রতিনিধিরা যখন ভবন থেকে বাইরে বের হয়ে সবাইকে শান্ত করার চেষ্টা করেন, তখন তাদের ওপরও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এতে আমাদের কয়েকজন প্রতিনিধি আহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের এক পর্যায়ে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং লাঠিচার্জের মাধ্যমে এলাকা ফাঁকা করা হয়। এরই মধ্যে আর্মি প্রায় আমাদের ৪৫ জন ব্যবসায়ী ও কর্মচারীকে আটক করেন এবং শেরেবাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করেন। যাদের ভিতরে কেউই আসলে প্রকৃত ঘটনার সাথে জড়িত নয় বলে আমাদের ধারণা।

এখন আমরা অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আমরা সবাই বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা। আমরা কখনোই মারামারি, হামলা বা ভাঙচুরে বিশ্বাস করি না। ২৯ অক্টোবরের পর গত দুই মাসে আমরা একের পর এক কর্মসূচি পালন করেছি। ১০ থেকে ২০ হাজার মানুষের সমাবেশ নিয়ে আমরা মানববন্ধন করেছি, অবস্থান কর্মসূচি করেছি, বিটিআরসি ভবনের সামনেও আন্দোলন করেছি, কিন্তু এই দুই মাসে একটি গাছের পাতাও আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেইনি।

আমরা ব্যবসায়ী হয়েও এত বড় জনসমাগমকে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনা করেছি। বরং আমাদের কণ্ঠরোধ করার জন্য এবং আমাদের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে ডিবি দিয়ে আমাদের প্রতিনিধিদের ধরে নেওয়ার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনাও ঘটানো হয়েছে। পরবর্তীতে কোনো অভিযোগ না পেয়ে তাদের সম্মানের সঙ্গেই ছেড়ে দেওয়া হয়।

এত কিছুর পরও আমরা কখনো রাষ্ট্রীয় কোনো সম্পদের ক্ষতি করিনি। বরং সরকারের প্রতিটি দপ্তরে লিখিতভাবে চিঠি দিয়েছি, আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো উপস্থাপন করেছি। প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপও চেয়েছি। কিন্তু সহযোগিতার পরিবর্তে আমরা শুধু মিথ্যা আশ্বাসই পেয়েছি।

এই বাস্তবতায় গতকালের ঘটনা অবশ্যই অনাকাঙ্ক্ষিত ও অগ্রহণযোগ্য। মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ এই ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না।

এই রাষ্ট্রীয় সম্পদ আমাদের সবার। আমাদের দেওয়া ট্যাক্সের টাকায় এই রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো গড়ে উঠেছে। সে হিসেবে এই সম্পদের মালিক আমরাও। এই সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিতে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

তবে একই সঙ্গে আমরা এটাও স্পষ্টভাবে বলছি, এই ঘটনার দায় কোনোভাবেই রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এড়াতে পারে না। আজ ব্যবসায়ীদের রাস্তায় নামার জন্য রাষ্ট্রের প্রতিটি দায়িত্বশীল সংস্থাই দায়ী। রাষ্ট্র কখনো উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করতে পারে না। রাষ্ট্র কখনো একটি পক্ষকে সুবিধা দিতে গিয়ে নীতিনির্ধারণ করতে পারে না।

আমরা একটি জনবহুল ও বেকারত্বপ্রবণ দেশের নাগরিক। রাষ্ট্র যেখানে উদ্যোক্তাদের সহায়তা করার কথা, সেখানে ১৮ কোটি মানুষের দেশের ব্যবসা কয়েকটি সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়ার নীতিতে ব্যস্ত,এটি গভীর উদ্বেগজনক।

তফসিল ঘোষণার পর ও নির্বাচনের ঠিক আগে এই ধরনের সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা দরকার।

রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা যেমন জনগণের অধিকার, তেমনি জনগণের ট্যাক্সের টাকায় গড়ে ওঠা সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

আমরা দেখেছি, অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারও একদিনে পতন হয়নি। ছাত্ররা প্রথমে সামান্য কোটা সংস্কারের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছিল। চাইলেই সরকার তখন বিষয়টি সমাধান করতে পারত। কিন্তু অহংকার ও অনমনীয় অবস্থানের কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় সে সময় ছাত্রদের ওপর নির্বিচারে গুলি বর্ষণের বীভৎসক মুহূর্ত এবং যেটা শেষ পর্যন্ত দেশব্যাপী আন্দোলনে রূপ নেয়, যার ফলে বিগত সরকার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় এবং ব্যাপক রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি হয়।

আজকের পরিস্থিতির সঙ্গে সেই সময়ের অনেক মিল আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো শুরুতে কেউ গুরুত্ব দেয়নি। কোন একটা পক্ষের অহংকার ও অনমনীয় অবস্থানের কারণে ২৫ হাজার ব্যবসায়ীকে রাতারাতি পথে বসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। মৌখিক আশ্বাস দিয়ে বারবার আমাদের রাস্তায় নামা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, আবার সেই আশ্বাস ভঙ্গ করা হয়েছে। এর ফলেই আজ সাধারণ ভোক্তারাও আমাদের সঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করছে। কারণ NEIR চালুর সঙ্গে সঙ্গেই সারা দেশে বহু গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়েছে। অর্থাৎ এখন শুধু ব্যবসায়ী নয়, ভোক্তারাও ভুক্তভোগী।

জুলাই আন্দোলনের সময় দেশের ছাত্র ও জনগণের সাথে যেমন আচরণ করা হয়েছিল, আজ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সেই একই আচরণ করা হচ্ছে। জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের উপর গুলি বর্ষণের সাদৃশ্য আজ আমরা পাই সরকারের প্রতিটি সংস্থার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের মধ্য দিয়ে। জুলাই আন্দোলনে যেভাবে বিক্ষুব্ধ জনতা দেশের রাষ্ট্রীয় সম্পদের উপর তাদের চাপা ক্ষোভ ঝেড়েছিল, ঠিক তেমনি গতকালকে জনতা তাদের চাপা ক্ষোভ অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বিটিআরসি ভবনের উপর ঝেড়েছে।

আমরা আবারও বলছি, ব্যবসায়ী হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। তবে বারবার আশ্বাস ভঙ্গের ফলে যদি প্রতিনিধিদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে কেউ কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে, তার দায় আমরা পুরোপুরি এড়াচ্ছি না, কিন্তু এটাও স্পষ্ট, এই পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে পরিকল্পিতভাবে।

যে সিন্ডিকেটের টাকায় সিস্টেম তৈরি করে আমাদের মতো হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চকণ্ঠে বলছি, “দেশের স্বার্থে প্রয়োজনে সারাদেশের মোবাইল ব্যবসায়ীদের অর্থায়নে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাষ্ট্রের পাশে দাঁড়িয়ে আবারও নতুন একটি বিটিআরসি ভবন তৈরি করে দিবে।”

কিন্তু সেই সুযোগে যেন এই অসহায় সাধারণ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানি না করা হয় এই দাবিও জানাচ্ছি। আমাদের দাবিসমূহ –
১. আমাদের সকল নেতা ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে এবং যাদেরকে আটক করা হয়েছে তাদেরকে ছেড়ে দিতে হবে।
২. সকল পক্ষকে নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসে ব্যবসাবান্ধব, ভোক্তাবান্ধব ও বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

আমরা বিশ্বাস করি, সমাধান একমাত্র আলোচনার টেবিলেই সম্ভব, যেখানে ব্যবসায়ী, ভোক্তা এবং সাধারণ জনগণের প্রতিনিধিত্ব থাকবে।

এটাই আমাদের অবস্থান। এটাই আমাদের লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© নাগরিক এক্সপ্রেস । সর্বসত্ব সংরক্ষিত। নাগরিক এক্সপ্রেস এর প্রকাশিত প্রচলিত কোনো সংবাদ তথ্য ছবি আলোকচিত্র রেখা চিত্র ভিডিও চিত্র অডিও কনটেস্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামত এর জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ণ লেখক এর