মুহাম্মদ এমরান
পার্বত্য বান্দরবানের লামা উপজেলাধীন ০৩ নং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ১ ও ৯ নং ওয়ার্ডের ২০ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তা ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
টানা কয়েকদিনের ভারি বৃষ্টিতে নদী ভাঙ্গনের ফলে ইয়াংছা হতে বড় পাড়া, বনপুর ও ত্রিশডেবা প্রায় ৬টি গ্রামের মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তা ভেঙ্গে নদীর সাথে মিশে গেছে। এতে প্রায় বিশ হাজার মানুষের জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
জনবসতিপূর্ণ এই দুই ওয়ার্ডের মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তা ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে অনাহারেও থাকতে পারে মানুষগুলো। সড়ক যোগাযোগ না থাকলে এই পাহাড়ি এলাকার মানুষগুলোর নিত্যদিনের আহার সংগ্রহ করতে পারবেনা।
ছোট-ছোট ছেলে-মেয়েরা স্কুল কলেজ মাদ্রাসায় যেতে পারবেনা।
ত্রিডেবার বাসিন্দা মংচাইপ্রো বলেন, প্রায় ২০ হাজার মানুষ বসবাস করেন আমাদের এইখানে। এবং এখানকার অধিকাংশ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। সেইসাথে এইখান থেকে প্রতিদিন সকাল বিকাল বিভিন্ন স্কুল কলেজে পড়াশোনা করতে যায় শত শত শিক্ষার্থী। এই ১৫.৭০ কিলোমিটার সড়ক হেঁটে যাওয়া অসম্ভব। রাস্তা ভেঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে আমাদের অনাহারে দিন কাটাতে হবে।
০৯ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আপ্রুসিং মার্মা বলেন, আমাদের এইখানে ৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩টি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মসজিদ-মাদ্রাসা, মন্দির, গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মালম্বীদের উপাসনালয় রয়েছে। সড়ক যোগাযোগ না থাকলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুল মাদ্রাসায় আসা-যাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের কৃষক ভাইয়েরা তাদের কৃষিপন্য বাজারজাত করতে পারবেনা। নিজেরদের খাদ্য সামগ্রী কিনে আনতে পারবেনা। এটি ছাড়া আমাদের বিকল্প কোন রাস্তা নাই।
আমি সংশ্লিষ্ট সকলের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এবিষয়ে লামা উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোঃ আবু হানিফ বলেন, ইয়াংছা-ত্রিডেবা রাস্তাটির এই ভাংগন অংশ মেরামতের জন্য ইতোমধ্যে প্রাক্কলন প্রস্তুত করে জেলা অফিস হয়ে ঢাকা এলজিইডি সদর দপ্তরের পাঠানো হয়েছে। দ্রুতই অনুমোদন হবে। এছাড়া উক্ত রাস্তা ১৫.৭০ কিলোমিটার একই প্রকল্পে (২য় পর্য়ায়ে) অনুমোদিত হয়ে আছে এবং প্রাক্কলন প্রস্তুত করে ঢাকা সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আশা করি চলতি অর্থ বছরেই বরাদ্ধ দিবে।