
ফরিদুল ইসলাম ফরিদ, দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি: জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি কেটে বিক্রির মহোৎসব চলছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এক্সক্যাভেটর ও ইঞ্জিন চালিত স্যালো মেশিন ড্রেজার দিয়ে জমির উর্বর মাটি ও নদী থেকে বালু কেটে বসত বাড়ী সহ ব্যবসা প্রতিষ্টানে ভরাট কাজে বিক্রি করছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা। প্রশাসনের নির্বিকার ভূমিকায় মাটি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না।
জানা গেছে, এ উপজেলার অধিকাংশ কৃষিজমি তিন ফসলি। এখানে সোনালি আঁশখ্যাত পাট, পেঁয়াজ ও আমন ধান আবাদ করা হয়। কিন্তু প্রতি বছর এ উপজেলায় বিপুল পরিমাণ জমির মাটি কাটা হচ্ছে। এ কারণে দিন দিন আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। কৃষকদের থেকে মাটি কিনে বসত বাড়ী সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হচ্ছেন মাটি ব্যবসায়ীরা। কৃষি জমি কাটা মাটি ও টপ সয়েল বিক্রি করার ফলে হুমকি মুখে পড়ছে কৃষিখাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা। এ ছাড়া রাত দিন মাহিন্দ্রা যোগে মাটি বহন করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রির ফলে নষ্ট হচ্ছে স্থানীয় গ্রামীণ কাঁচাপাকা সড়ক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলায় কয়েকটি শক্তিশালী মাটি ব্যবসায়ী চক্র গড়ে উঠেছে। এরা দরিদ্র কৃষককে নানা প্রলোভন দেখিয়ে জমির মাটি কিনে নিচ্ছে। আবার কেউ কেউ প্রয়োজনের তাগিদে নগদ অর্থ পেতে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে দিচ্ছেন। ৮-১০ ফুট গভীর করে মাটি কাটার ফলে অনেক জমি ডোবায় পরিণত হয়েছে। এসব জমিতে ফসল বা মাছ চাষ করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া কৃষিজমি থেকে কেটে নেওয়া মাটি বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে ট্রলি গাড়ি। এসব ট্রলির কারণে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গ্রামীণ রাস্তাঘাটে খানাখন্দ তৈরি হয়ে দ্রুত ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এ ছাড়া ট্রলি চলাচলের কারণে আবাদি জমিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
রোববার সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার পারপাররামপুরন ইউনিয়নের মাঠেরঘাট, ডাংধরা ইউনিয়নের বাঘারচর ব্যাপারী পাড়া কৃষি জমি থেকে এলাকায় লালন, ডাংধরা ইউনিয়নের আমিনুল সহ বেশ কয়েক জন মাটি ব্যবসায়ী এক্সক্যাভেটর দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে নেওয়া মাটি ট্রলিতে করে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করছে। এতে গ্রামীণ ও এলজিডি সড়ক খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়াও উপজেলার বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের কলাকান্দা, বাহাদুরাবাদ, ভাটি পাড়া ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে দীর্ঘ দিন যাবত ইঞ্জিন চালিত স্যালো মেশিন ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।
সহকারী কমিশনার (ভুমি) মাহমুদুল ইসলাম জানান, উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করে একজন কে বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযান চলমান রয়েছে, অবৈধ ভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন ও ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুরাদ হাসান জানান, ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা ও নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।