
মো: তুহিন ফয়েজ, মতলব চাঁদপুর,
১২ ঘন্টার মধ্যে খুন সহ দস্যূতা মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামী গ্রেফতার করেছে পুলিশ ৷
রোববার ১ মার্চ দুপুরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সহকারী পুলিশ সুপার মতলব সার্কেল হুসনাইন সানীব বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারী দুপুর অনুমান ১২.৩০ ঘটিকার সময় আমরা সংবাদ পাইয়া বাগানবাড়ী ইউনিয়নের হাপানিয়া গ্রামে ইতালী প্রবাসী জনৈক নুর ইসলাম এর বসতবাড়ীতে তাহার বৃদ্ধ মাকে হত্যা করে এবং তাহার স্ত্রী হালিমা বেগমকে হাত পা বেঁধে রেখে বসতঘরের ভিতর ফেলে রেখে স্বর্ণালংকার লুন্ঠন করে নিয়ে যায়। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে জাবীর হুসনাইন সানীব, সহকারী পুলিশ সুপার, মতলব সার্কেল, চাঁদপুর এর নেতৃত্বে পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) জনাব প্রদীপ মন্ডল ও এসআই/সুমন চন্দ্র দাসসহ অফিসার ও ফোর্স ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রবাসী নুর ইসলাম এর স্ত্রী হালিমা বেগম সহ স্থানীয় আশপাশের লোকজনের সাথে কথা বলেন। পুলিশী তন্তে ও প্রাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণে হালিমা বেগম এর কথাবার্তা সন্দেহজনক এবং অসংলগ্ন হওয়ায় আমরা তাকে নিবিড় ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের আমাদের হেফাজতে নেই। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে দুই সন্তানের জননী হালিমা বেগম স্বীকার করে যে, বিগত ০৮ মাস আগে প্রতিবেশী অবিবাহিত যুবক আশরাফুল ইসলাম মিঠু(৩০) এর সাথে পরকীয়া সর্ম্পকে জড়িয়ে পড়ে। সে সুবাধে তাহাদের বাড়ীতে আসামী আশরাফুল ইসলাম মিঠু অবাধ আসা যাওয়া করিত এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে সখ্যতা তৈরী হয়। এ সর্ম্পকের প্রেক্ষিতে প্রবাসী নুর ইসলাম এর ১ম স্ত্রীর সন্তান ইতালী প্রবাসী সোহান এর সাথে অনলাইনে ব্যবসার কথা বলে ৩০০০০০/- (তিনলক্ষ) টাকা বিনিয়োগ করে। পরবর্তীতে সোহান এ টাকার লভ্যাংশ না পেয়ে তাহাকে এড়িয়ে চলে এবং আসামী আশরাফুল ইসলাম মিঠুর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে য়ে। আসামী আশরাফুল ইসলাম মিঠু তাহার বিনিয়োগকৃত টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য সোহানকে না পেয়ে তাহার দাদী ভিকটিম পারুল বেগম(৬৫) এর কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও টাকা আদায় করতে সহায়তায় করার জন্য পরকীয়া প্রেমিকা হালিমা বেগমকে বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। হালিমা বেগম রাজী না হলে আসামী আশরাফুল ইসলাম পরকীয়া সর্ম্পকের কথা তাহার প্রবাসী স্বামীকে জানিয়ে দিবে মর্মে ভয় দেখালে সে আসামীকে সহায়তার করার জন্য রাজী হয়। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঘটনার দিন অর্থাৎ ২৭/০২/২৬ খ্রিঃ তারিখ রাত অনুমান ০৮.৩০ ঘটিকার সময় গোপনে আসামী আশরাফুল ইসলাম মিঠু(৩০) প্রবাসী নুর ইসলাম এর বাড়ীতে আসে এবং আসামী হালিমা বেগম মুল গেইট খুলে দিলে সে বসতঘরে প্রবেশ করে ভিকটিম পারুল বেগম(৬৫) কে খাওয়ানোর জন্য হালিমা বেগমকে এক পাতা ঘুমের ঔষধ দেয়। হালিমা বেগম উক্ত ঘুমের ঔষধের পাতা থেকে একটি ট্যাবলেট ভিকটিম পারুল বেগম(৬৫) কে সেবন করালে ভিকটিম সামান্য তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়লে আসামী আশরাফুল ইসলাম মিঠু(৩০) হামলে পড়ে ভিকটিমের দুই কানে থাকা অনুমান ০১ ভরি ওজনের স্বর্ণের কানের দুল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ভিকটিম সজাগ হয়ে তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে এবং ধস্তাধস্তি শুরু করে। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আসামী আশরাফুল ইসলাম মিঠু ভিকটিম পারুল বেগম বুকের উপর চেপে বসে এবং তাহার মাথা ফ্লোরের সাথে আঘাত করে ও গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। সম্পূর্ণ ঘটনাটি হালিমা বেগম পাশে দাড়িয়ে থেকে দেখে। পরবর্তীতে ভিকটিমের হত্যাকান্ডের ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য হালিমা বেগমকে দুই হাতে ও পায়ে ওড়না দিয়ে বেঁধে রেখে চলে যায়।