
বিশেষ প্রতিনিধ:
জাল চেকের মাধ্যমে ৪ কোটি টাকা উত্তোলনের সময় ব্যাংক কর্তৃপক্ষের হাতে ধরা পড়ে মাসুদ চৌধুরী নামের এক জালিয়াত চক্রের সদস্য। ঈদের আগ মুহূর্তে এত বড় ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তারা পেরেশানিতে পড়ে যান। এই ঘটনাটি ঘটে রোববার বিকালে ইসলামী ব্যাংক টঙ্গী কলেজের শাখায়।
ম্যানেজার অপারেশন বোরহান উদ্দিন আহমেদ জানান, আড়াইটার দিকে এই প্রতারক চক্র ব্যাংকে প্রবেশ করে এয়ার এন্টারপ্রাইজের একটি জাল চেকের মাধ্যমে ৪ কোটি টাকা কলেজ গেট শাখার চলতি হিসাব নম্বর- ২০৫০৪৩৫০১০০০৪২৫১০ ট্রান্সফার করার জন্য তাড়াহুড়া করছিল।
ঈদের আগমহূর্তে ব্যাংক বন্ধের আগের দিন ব্যাংকে অন্যান্য দিনের তুলনায় ঈদের বন্ধের আগের দিন গ্রাহকের সংখ্যা ও বেশি ছিল। কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এই সুযোগে প্রতারক চক্র চার কোটি টাকার চেকটি ফান্ড ট্রান্সফার করার জন্য তাড়াহুড়া করছিল। বন্ধের আগের দিন এত বড় অংকের চেক দেখে আমার সন্দেহ হয়। আমি জালিয়াত চক্রের সদস্যদের এত বড় অংকের টাকা কিভাবে কোথায় থেকে পেলেন বিভিন্ন প্রশ্ন করে তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা সঠিক উত্তর দিতে পারেনি।
পরে ৪ কোটি টাকা দেয়া গ্রাহকের পল্টন শাখা চলতি হিসাব নাম্বারের খোঁজখবর নেওয়ার জন্য ফোন দেই। পরে তিনি বলেন, আমি কাউকে ৪ কোটি টাকা চেক দেইনি। পরে শাখা ব্যবস্থাপক সাইদুল ইসলামকে বিষয়টা জানালে তিনি চক্রের সদস্যদের আটকের চেষ্টা করেন। এরমধ্যে টঙ্গী কলেজ গেট শাখার একাউন্ট হোল্ডার এফ এম এনামুল হক, এনআইডি নং-৫৯৭৩৫২১৭৫৯, পিতা- এছাক ফকির, মুক্তার বাড়ি রোড, টঙ্গী পশ্চিম থানা- গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন সে বুঝতে পেরে পালিয়ে যায়। চক্রের অন্যতম সদস্য চাঁদপুর জেলা, মতলব থানার, দুর্গাপুর গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে মাসুদ চৌধুরীকে ব্যাংক কর্মকর্তারা আটক করে পুলিশকে জানালে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে এ আর এন্টারপ্রাইজের মালিক রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি ৪ কোটি টাকার চেক কাউকে দেইনি। যারা আমার চেক জালিয়াতি করে স্বাক্ষর জাল করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিব। শাখা ব্যবস্থাপক সাইদুল ইসলাম জানান, এই চক্রটি বড় ধরনের একটি দুষ্কৃতকারী দল। তার সহকর্মীরা সতর্ক না থাকলে পার পেয়ে যেত এই চক্রটি।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার্স ইনচার্জ মেহেদী হাসান বলেন, শাখা ব্যবস্থাপকের ফোন পেয়ে ফোর্স পাঠিয়ে তাদেরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসি। এ বিষয়ে চক্রের বিরুদ্ধে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
কি ভয়ানক ব্যাপার? এতোদিন টাকা জালের কথা জানতাম, এখন চেক জাল হওয়া শুরু হয়ে গেছে। এ বিষয়ে সরকারের আর্থিক বিভাগের নজরদারি বাড়াতে হবে।