
মোঃ শরিফুল ইসলাম (স্টাফ রিপোর্টার)
২০ অক্টোবর ২০২৫, ৫.১৫ মি.
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের তালিকা চেয়ে গতকাল জারি করা সরকারি অফিস আদেশ প্রত্যাহার করেছেন মাদারীপুরের জেলা শিক্ষা অফিসার। কেন্দ্রীয় শিক্ষক নেতাদের চাপের মুখে ওই অফিস আদেশ প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন তিনি।
সোমবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে জেলা শিক্ষা অফিসের ওয়েবসাইটে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন ।
জানাযায়, ভাতা বঞ্চিত এমপিওভুক্ত শিক্ষাকরা তাদের মূল বেতনের ২০% বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা’র দাবিতে গত ৯ দিন যাবৎ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করেছে।
কিন্তু দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত এ শিক্ষক আন্দোলন নস্যাৎ করতে মাদারীপুরের জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম গতকাল একটি অফিস আদেশ দেন। এতে আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী মাদারীপুরের শিক্ষকদের তালিকা প্রেরণ করতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো।
তার এ কর্মকান্ডে স্থানীয় শিক্ষকরা তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি কেন্দ্রীয় শিক্ষক নেতাদের নজরে আসলে তারা তাকে আজ দুপুরের মধ্যে ওই অফিস আদেশ প্রত্যাহার করতে আল্টিমেটাম দেন।পরিস্থিতি বেগতিক হওয়ায় অনিবার্য কারণ দেখিয়ে অপর এক অফিস আদেশে আজ দুপুরে গতকালের জারি করা সেই অফিস আদেশ প্রত্যাহার করেছেন।
উল্লেখ্য, “শিক্ষা জনগনের মৌলিক অধিকার।পৃথিবীর সব দেশে শিক্ষা অবৈতনিক ও শিক্ষকদের আর্থ-সামাজিক মর্যাদাও সকল পেশাজীবীর উর্ধ্বে। কিন্তু দুঃখের বিষয় স্বাধীনতার এত বছর পেরিয়ে গেলেও এই সোনার বাংলার চিত্র রয়েছে তার উল্টো।” তাই শিক্ষকরা তাদের আর্থিক মর্যাদা বৈশ্বিক স্তরে নিতে ও শিক্ষাকে সকল নাগরিকের জন্য অবৈতনিক করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই প্রথম ধাপ হিসাবে তারা তাদের জন্য নূন্যতম ভাতা চালুর দাবিতে আমরণ অনশন করেছেন ।
এমন সময়ে একজন ঊর্ধ্বতন শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে আন্দোলনে সহযোগিতার পরিবর্তে তিনি আন্দোলনরতদের তালিকা চেয়ে অফিস আদেশ জারি করেন। ফলে শিক্ষক মহলের হুমকিসহ ব্যাপক সমালোচনার পাত্র হন মাদারীপুরের শিক্ষা কর্মকর্তা।