1. admin@nagorikexpress.com : admin :
শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ০২:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

সিলেটে ৫৩৬ কি.মিটার সড়ক এখনও পানির নিচে।

  • আপডেট সময় : বুধবার, ২৫ মে, ২০২২
  • ৬৮ বার পঠিত

মুশফাকুর রহমান সিলেট জেলা প্রতিনিধিঃ

সিলেটে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক মেরামত, পুনর্নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্ত বাসাবাড়ির তালিকা প্রণয়ন এবং নগরীকে বন্যামুক্ত রাখতে করণীয় নির্ধারণে একটি উচ্চ পর্যায়ের সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও জেলার ৫৩৬ কিলোমিটার সড়ক এখনও পানির নিচে রয়েছে বলে জানা গেছে।

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক), সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি বন্যায় নগরীর ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ, তালিকা প্রণয়ন ও করণীয় বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরি করবে। এ কমিটির যৌথ প্রস্তাবনা সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। নগরীর বন্যা পরিস্থিতিতে গত রোববার সব দপ্তর-সংস্থা ও অংশীজনকে নিয়ে নগরীর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিসিকের আয়োজনে নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নির্দেশনা দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ (সদর-নগর) আসনের সংসদ সদস্য ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা পানিতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে সিলেট সিটি করপোরেশন দুর্যোগ-পরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, বাড়িঘরের তথ্য সংগ্রহ করে সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠালে সরকার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ সময় সুরমা নদী খনন, নগরীর পুকুর-দিঘি উদ্ধার ও খনন এবং ছড়াগুলোকে শতভাগ উদ্ধার করার নির্দেশ দেন তিনি। এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে নগরীকে রক্ষায় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর জোর দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সভায় নগরীর উপদ্রুত এলাকার নাগরিকদের ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা ও বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও সভায় আগামী বর্ষাকালে যাতে বন্যার পানি নগরীতে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও নগরীর মধ্যে যেসব এলাকায় নদীর পাড় নিচু, সেসব পাড় উঁচু করার সিদ্ধান্ত হয়। বন্যা থেকে নগরীকে রক্ষায় সুরমা নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনতে নদী খননের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এ নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের গবেষণাপূর্বক সরকারের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।

পানির নিচে ৫৩৬ কিলোমিটার সড়ক :সিলেটের এবারের বন্যায় সড়ক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দু’দিন ধরে পানি কমে এলেও এখনও অনেক সড়ক পানির নিচে রয়েছে। ফলে পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ করত পারেনি সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রাথমিকভাবে সিসিক, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সড়ক ও জনপথের (সওজ) ৫৩৬ কিলোমিটার সড়ক পানির নিচে রয়েছে বলে জানা গেছে। বন্যার পানি নামলেও এসব সড়ক সংস্কারে লাগবে প্রচুর সময়। সংশ্নিষ্টরা জানান, ডুবে যাওয়া সড়কের মধ্যে সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রায় আড়াইশ কিলোমিটার, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ২৩০ কিলোমিটার এবং সড়ক ও জনপথের (সওজ) আওতাধীন আটটি সড়কের ৫৫ কিলোমিটার বন্যাপ্লাবিত। এর মধ্যে অনেক সড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান বলেন, সিসিক এলাকার ৫০০ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টি ওয়ার্ডের প্রায় আড়াইশ কিলোমিটার সড়কে বন্যার পানি উঠে গেছে। এসব সড়কের অনেক স্থানে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সড়কের পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় এসব সড়ক অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, পানি নামলেই দ্রুততম সময়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে কাজ শুরু করা হবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল কবির জানান, তাদের আওতাধীন সিলেট জেলার ১০টি উপজেলার ৬৬টি সড়কের ২৩০ কিলোমিটার পানির নিচে। এসব সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় জেলা ও উপজেলা সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সড়ক ও জনপথের ৫৫ কিলোমিটার সড়ক পানিতে তলিয়ে গিয়ে অনেক স্থানে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© নাগরিক এক্সপ্রেস । সর্বসত্ব সংরক্ষিত। নাগরিক এক্সপ্রেস এর প্রকাশিত প্রচলিত কোনো সংবাদ তথ্য ছবি আলোকচিত্র রেখা চিত্র ভিডিও চিত্র অডিও কনটেস্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামত এর জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ণ লেখক এর
Theme Customized By Shakil IT Park